২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল অনিয়ম দুর্নীতির আঁতুড় ঘর হিসেবে পরিচিত । এখানে দালালদের দৌরাত্মে অসহায় চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগী এবং তাদের স্বজনরা। রোগীদের নিয়ে টানাহেঁচড়া আর হয়রানি যেন এখনকার নিত্যদিনের কাজ। এখন শুধু দালাল নয় অফিস স্টাফরাও বিভিন্ন কায়দায় হাতিয়ে নিচ্ছেন অবৈধ পন্থায় নগদ অর্থ।
টাকা না দিলে জখমি সনদ যার প্রয়োজন তাকে দিনের পর দিন হয়রানি আর টাকা দিলেই প্রয়োজনের থেকেও বেশি মেলে ভুয়া জখমি সনদ! এখানে টাকা দিলেই গভীর ক্ষত জখম দেখিয়ে ভর্তি করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দেওয়া হয় গুরুতর এসব জখমি সার্টিফিকেট (সনদ)। দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ রমরমা অনৈতিক সনদ বাণিজ্য। এ অবস্থায় সামান্য ঘটনাতেও হাসপাতাল থেকে জখমি সনদ নিয়ে মামলার জালে জড়িয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এ সুযোগ। আর এ অনৈতিক সনদ বাণিজ্যের ফাঁদে পরে মিথ্যা মামলায় সীমাহীন হয়রানি ও জেল-জরিমানার মুখোমুখি হচ্ছে নিরীহ মানুষ। ফলে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় দরিদ্র রোগীরা। এমনকি অনেক পুলিশ সদস্যরা আছেন যারা নিঃস্বার্থে মানুষের সেবার জন্য কাজ করেন। যখম মামলায় প্রমাণ আনতে প্রয়োজন পরে সনদপত্রের সেখানে তাদেরও টাকা না দিলে দিনের পর দিন হয়রানি করেন এমন অভিযোগ্য রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ হোসেন ঈমাম ও হাসপাতালের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মোঃ জোবায়ের মিয়া টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। মেডিকেল সার্টিফিকেট বাণিজ্যই তাদের এখন মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অল্প কয়েক দিনে হাসপাতলে তারা এক বিশাল সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলেছেন। হাসপাতালের রোগীদের খাবার ও ওষুধপত্র বিতরণেরও কোনো নিয়ম মানা হয় না এবং এমনকি হাসপাতাল দালাল সেট করে রোগীদের নিজেদের ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।আমরা তাদের অধীনে চাকরি করায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে পারি না।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ওয়েবসাইটে থাকা তাদের নাম্বারে একাধিক বার ফোন করলে দুজনার ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আবদুল মন্নানের সাথে মুঠোফোনের কথা হলে তিনি জানান, এ বিষয়টা গুরুতর অপরাধ। মেডিকেল সার্টিফিকেটের বিষয় পুরোটাই আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ হোসেন ঈমাম সাহেব দেখেন। মানুষকে হয়রানি করা মোটেও কাম্য নয় আর এটা আমাদের সরকারি নীতিমালাতেও নেই আমাকে উপযুক্ত প্রমাণ দিলে আমি অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।