• দেশজুড়ে
  • তাজিংডং, কেওক্রাডং নাকি সাকা হাফং — বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া কোনটি, মাপছে সরকার,

তাজিংডং, কেওক্রাডং নাকি সাকা হাফং — বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া কোনটি, মাপছে সরকার,

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
তাজিংডং, কেওক্রাডং নাকি সাকা হাফং — বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া কোনটি, মাপছে সরকার,

অসীম রায় (অশ্বিনী) বান্দরবান "

দশকের পর দশক ধরে চলে আসা বিতর্কের এবার নিষ্পত্তি হতে পারে। ৪ থেকে ১২ এপ্রিল — এই নয় দিনেই বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে উঠে উচ্চতা মাপবে জরিপ দল। আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে সেন্টিমিটার নির্ভুলতায় বেরিয়ে আসবে চূড়ান্ত উত্তর।

বান্দরবানের পাহাড়ে উচ্চতা পরিমাণ করছে সরকার,দ্রুত সময়ে প্রাজ্ঞাপন জারি:

দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে জরিপ কাজ শুরু করেছে সার্ভে অধিদপ্তরের ৪টি গ্রুপের ২৭জন সার্ভেয়ার। শহরের সার্কিট হাউস কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ভূমি রেকর্ড ও জরিপ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় কোনটি — এই প্রশ্নের উত্তর এত দিন ছিল না কারও কাছে। তাজিংডং, কেওক্রাডং আর সাকা হাফং — তিনটি নাম নিয়ে বছরের পর বছর চলে এসেছে বিতর্ক। পর্যটক থেকে গবেষক, পাহাড়প্রেমী থেকে ভূগোলের ছাত্র — সবার মনেই ঘুরেছে একই জিজ্ঞাসা। এবার সেই জিজ্ঞাসার জবাব দিতে মাঠে নামছে জরিপ অধিদপ্তর।

৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই জরিপ অভিযান। বান্দরবানের রুমা ও থানচির দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে জরিপ দল পৌঁছাবে তাজিংডং, কেওক্রাডং ও সাকা হাফংয়ের চূড়ায়। রেমাক্রি, তিন্দুর মতো প্রত্যন্ত এলাকাতেও যাবেন জরিপকর্মীরা। প্রতিটি চূড়ার উচ্চতা মাপা হবে সেন্টিমিটার নির্ভুলতায়।

জরিপে ব্যবহার হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি — ডুয়াল ফ্রিকোয়েন্সি জিএনএসএস রিসিভার, আরটিকে রিসিভার, টোটাল স্টেশন ও লেভেল মেশিন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে জিওডেটিক পদ্ধতি ও গ্লোবাল ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম প্রযুক্তিতে নির্ধারিত হবে প্রতিটি শৃঙ্গের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ এবং গড় সমুদ্রতল থেকে প্রকৃত উচ্চতা।

সার্ভেয়ার জেনারেল অব বাংলাদেশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুর-এ-আলম মোহাম্মদ যোবায়ের সারোয়ারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করবেন উপপরিচালক (জরিপ) দেবাশীষ সরকার।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়ার নাম এবার সরকারিভাবে নির্ধারিত হতে চলেছে — এই প্রত্যাশায় এখন তাকিয়ে আছেন দেশের পর্বতারোহী ও ভূগোলপ্রেমীরা।

তিনি আরো বলেন, এই উদ্যোগের ফলে দেশের ভৌগোলিক তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। ভুমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল রব হাওলাদার, টিম লিডার দেবাশীষ সরকার, মেজর তৌহিদ ও মো: বশির উদ্দিনসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।