সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে নির্বিচারে চলছে জাটকা ইলিশ নিধন। স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইলিশের পোনা। কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেই জেলা মৎস্য বিভাগের। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা সময়ে প্রতি জেলেকে ৮০ কেজি চালের পাশাপাশি এবার সরকার ৬ হাজার টাকার প্রণোদনা দিলেও নেই কোন সফলতা। প্রণোদনা পেয়েও জেলেরা নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করেনি। কুলেই প্রকাশ্যে ডাকে আড়ৎদারদের মাধ্যমে পাইকারদের কাছে মাছ বিক্রি করছে জেলেরা। এই মাছ স্থানীয় বাজার বিক্রি হচ্ছে।
মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও, নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ জাল ফেলে জাটকা শিকার করছে জেলেরা। এতে মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিছু আড়তদার ও রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
জেলার মেঘনা উপকূলীয় এলাকা রামগতি, কমলনগর, লক্ষ্মীপুর সদর ও রায়পুর এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করছে। এসব মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে হাটবাজার ও আড়তে। সংরক্ষণ করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
কয়েকজন জেলে জানান, আড়ৎ থেকে নেওয়া অগ্রিম ঋণ টাকা পরিশোধ করতেই আড়ৎদারদের ছাপে তারা বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ ধরছেন। তবে এবছর জাটকা নিধনের মাত্রা বেড়েছে বলেও স্বীকার করেন তারা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মাদ দেলোয়ার হোসাইন জনবল সংকটকে দায়ী করেছেন, তবে তিনি এ জেলায় নতুন আসছেন বলেও জানান। তাছাড়া বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সাল থেকে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মেঘনার একটি নির্দিষ্ট অংশে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে।