রাঙ্গামাটি জেলায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণে বৈসু উৎসবকে কেন্দ্র করে সামাজিক, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা, গরিয়া নৃত্য , বতল নৃত্য, গঙ্গা দেবীকে উদ্দেশ্য করে ফুল ভাসানো পুজা, পিঠা তৈরী, পাজন তৈরি , বয়োজ্যেষ্ঠ স্নান সহ নানান অনুষ্টানের আয়োজন করেছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউণ্ডেসন রাঙ্গামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে , গর্জনতলী বসুন্ধরা নদীর পার এলাকায় এ অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়। এ সময়, ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশন সভাপতি বিদ্যাৎ শংকর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, প্রধান অতিথি ,, রা্ঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য সাগরিকা রোয়াজা , গেষ্ট অব অনার রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা রিজাউল করিম, শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন, শ্যামল কান্তি ত্রিপুরা সাধারণ সম্পাদক, ত্রিপুরা কল্যান ফাউন্ডেশন, রাঙ্গামাটি, জীবন রোয়াজা প্রমুখ । এসময বক্তারা বলেন, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসু’ চৈত্র সংক্রান্তি পুরনো বছরের গ্লানি ও দুঃখ দূর করে নতুন বছরকে স্বাগত জানানিয়ে নতুন বছরে অতীতের সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে কাদে কাদ মিলিয়ে দেশ জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, বৈসু উৎসব আমাদের ইতিহ্যবাহি গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন যা হাজার বছরের ইতিহাস বহন করে। সমপ্রীতি ও মিলনমেলা বৈসু উৎসব জাতি-ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন তৈরি করে। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কান্তি ত্রিপুরা জানান, চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন—এই তিন দিনে বৈসু পালিত হয়। প্রথম দিন হারি বৈসু (ফুল ভাসানো), দ্বিতীয় দিন বৈসুমা (মূল উৎসব), এবং তৃতীয় বা শেষ দিনকে বিসিকাতাল (নববর্ষ উৎসব) বলা হয়। ফুল ভাসানো (হারি বৈসু): ত্রিপুরা নারীরা ভোরে নানারকম ফুল এবং নিম পাতা সংগ্রহ করেন। পরে ঐতিহ্যবাহী পোশাক (রিনাই-রিসা) পরিধান করে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে নদীতে ফুল ভাসিয়ে পূজা দেন [ এই সময়ে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করা হয়। এই প্রাণের উৎসবটি মূলত প্রকৃতির সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্ককে তুলে ধরে এবং পাহাড়ি জনপদে উৎসবের বর্ণিল আমেজ নিয়ে আসে।