• দেশজুড়ে
  • ঘাতক বাস আটক করায় পুলিশের সাথে বিএনপি নেতার উত্তেজনা

ঘাতক বাস আটক করায় পুলিশের সাথে বিএনপি নেতার উত্তেজনা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ঘাতক বাস আটক করায় পুলিশের সাথে বিএনপি নেতার উত্তেজনা

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি :

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পারাপারের সময় বেপরোয়া একটি বাসের ধাক্কায় ইউনুস সেরনিয়াবাত (৬০) নামের এক পথচারী নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ঘাতক বাসটি আটক করতে গেলে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এমনকি কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে শারিরিকভাবে হেনেস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে নিহত ব্যক্তির সুরতহাল প্রতিবেদন ছাড়াই মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে থানায় পাঠিয়ে দেওয়ায় আইনী জটিলতায় পরেছে নিহত ইউনুসের পরিবার। রবিবার দুপুর পর্যন্ত তার দাফন সম্পন্ন হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার রাত আটটার দিকে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী হাসপাতালের সামনে মহাসড়ক পারাপারের সময় বরিশালগামী ফেমা পরিবহনের একটি বাস ইউনুসকে চাঁপা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত ইউনুস আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মচারী ছিলেন।

নিহত ব্যক্তির স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা নিহত ব্যক্তির পরিবারের সাথে সমঝোতা করে বাসটি আশোকাঠি হাসপাতালের সামনে থেকে ছেড়ে দেন। পরে খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ আশোকাঠী পেট্রলপাম্প এলাকা থেকে বাসটি আটক করে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে বাসটি আটক করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে হান্নান শরীফের সহযোগি ১৫ থেকে ২০ জন যুবক এসে বাঁধা প্রদান করে। পরে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হান্নান শরীফ ঘটনাস্থলে এসে বাস ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করেন।

এসআই শরীফুল আরও বলেন, এ সময় খবর আসে যে বাসের ধাক্কায় আহত ইউনুস মারা গেছেন। এরপর পরিস্থিতি বদলে গেলে হান্নান শরীফ ও তার লোকজন সরে যান। তবে সুরতহাল প্রতিবেদন ছাড়াই বিএনপি নেতা হান্নান শরীফের সহযোগিরা লাশটি নিহত ব্যক্তির গ্রামের বাড়ি পাশের আগৈলঝাড়া থানায় পাঠিয়ে দেন, যা আইনবহির্ভূত। বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান বলেন, বরিশালে চোখের ডাক্তার দেখাতে শরীয়তপুর থেকে ৬২ জন রোগী নিয়ে বাসটি যাচ্ছিল। হাসপাতালের সামনে দুর্ঘটনা ঘটে। পরে বাসটি পেট্রলপাম্পে সাইড করতে গেলে হাইওয়ে পুলিশ চালকের ওপর চড়াও হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। তিনি দাবি করেন, পুলিশের কাজে কোনো বাঁধা দেওয়া হয়নি।

নিহ‌ত ব্যক্তির চাচা‌তো ভাই মো. মিন্টু ব‌লেন, মানুষ মারা গে‌ছে কিন্তু আইন প্রয়োগ করতে দেবেনা। হান্নান শরীফের সহযোগিরা গা‌ড়ি নিতে পু‌লিশকে বাঁধা দিয়েছে। এখনো নিহত ইউনুসের দাফন সস্পন্ন হয়‌নি। আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএন‌পির আহবায়ক হা‌ফিজ সিকদার হাইও‌য়ে থানায় গে‌ছেন। পু‌লি‌শের সাথে কথা বলে আইনি জ‌টিলতা শেষ হলে নিহত ইউনুসের জানাজা সস্পন্ন হবে।

এ ব্যাপারে বিএন‌পির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠ‌নিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ব‌লেন, পু‌লি‌শের কাজে বাঁধা দিয়ে হান্নান শরীফ মারাত্মক অন্যায় করেছেন। তার মতো লোকের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হ‌চ্ছে। সরকা‌রি কাজে বাঁধা দেওয়ায় পু‌লিশ তার বিরুদ্ধে কেন আইনি পদ‌ক্ষেপ নেয় না।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার দা‌য়িত্বপ্রাপ্ত ওসি এবং ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক মো. হেলাল বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি আটক করারকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সাথে থানা পুলিশের ঝামেলা হয়েছিল। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।