• দেশজুড়ে
  • নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় পাবনার দুর্গ: দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ক্লান্ত ছাত্রনেতারা কি তবে রাজনীতির মাঠ ছাড়ছেন!

নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় পাবনার দুর্গ: দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ক্লান্ত ছাত্রনেতারা কি তবে রাজনীতির মাঠ ছাড়ছেন!

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় পাবনার দুর্গ: দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ক্লান্ত ছাত্রনেতারা কি তবে রাজনীতির মাঠ ছাড়ছেন!

রুবেল শেখ -পাবনা জেলা প্রতিনিধি

‎এক সময়ের অপ্রতিরোধ্য সাংগঠনিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত পাবনা জেলা ছাত্রদল আজ এক গভীর নেতৃত্ব সংকটে নিমজ্জিত। ২০১৮ সালের জুন মাসে ৬ সদস্যের যে আংশিক কমিটি এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির পর দীর্ঘ ছয়টি বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো কমিটির দেখা মেলেনি। দীর্ঘ এই সময়ে সাংগঠনিক স্থবিরতার ফলে জেলা থেকে শুরু করে সদর ও পৌর কমিটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। ‎প্রশ্ন উঠেছে—পাবনার রাজপথের এই লড়াকু সৈনিকরা কি তবে নেতৃত্বের অবহেলায় চিরতরে রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন? ‎শিকড়হীন সংগঠন: ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে হাহাকার! পাবনা জেলা ছাত্রদলের বর্তমান সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এর তৃণমূল পর্যায়। জেলা কমিটির স্থবিরতার কারণে স্থবির হয়ে আছে পাবনা সদর উপজেলা ও পৌর কমিটি। ফলে এর অধীনস্থ "ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড "পর্যায়ে দীর্ঘকাল ধরে কোনো নতুন কমিটি নেই। একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রাণশক্তি আসে তৃণমূলের ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে, কিন্তু পাবনায় সেই শিকড়ই আজ উপড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে নতুন কমিটি না থাকায় সাধারণ ছাত্ররা সংগঠনের সাথে যুক্ত হতে পারছে না, যার ফলে নতুন নেতৃত্ব তৈরির স্বাভাবিক পথটি আজ পুরোপুরি রুদ্ধ। নেতৃত্ব তৈরির কারখানায় তালা: ঝরে যাচ্ছে তরুণ নেতৃত্ব! পাবনা সদর ও পৌর এলাকায় এমন অনেক প্রতিভাবান তরুণ রয়েছে যারা ছাত্রদলের ঝাণ্ডা হাতে রাজপথ কাঁপাতে পারতো। কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো পুনর্গঠন না হওয়ায় এই তরুণরা আজ নেতৃত্বের কোনো সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে তারা এক বুক হতাশা নিয়ে রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়ছে। নেতৃত্বে আসার সুযোগ না থাকায় এবং যোগ্যতার মূল্যায়ন না মেলায় উদীয়মান এই ছাত্রনেতারা অঙ্কুরেই ঝরে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এভাবে তৃণমূলের কমিটিগুলো ঝুলে থাকা মানেই হলো সংগঠনের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজ হাতে ধ্বংস করে দেওয়া। ‎"ঐক্যবদ্ধতার অভাব ও রাজপথের শূন্যতা! ‎বর্তমান ছাত্রদল পাবনা জেলা কমিটির ভেতরে এখন আর সেই ভ্রাতৃত্ব ও সাংগঠনিক ঐক্যের লেশমাত্র নেই। বড় কোনো কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের এক সুতায় বাঁধার মতো বলিষ্ঠ অভিভাবকত্ব আজ পাবনায় খুঁজে পাওয়া ভার। নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এতটাই প্রকট যে, তৃণমূল কর্মীরা কার কাছে যাবে, কার নির্দেশ মানবে—তা নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে ভুগছে। এক সময়ের ঐক্যবদ্ধ ছাত্রদল আজ এক অদৃশ্য বিভাজনের শিকার হয়ে রাজপথে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ক্লান্ত হয়ে অনেক রাজপথ কাঁপানো ছাত্রনেতা এখন সক্রিয় রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। পেটের তাগিদে এবং পারিবারিক চাপে তারা এখন ছোটখাটো ব্যবসা কিংবা অন্যান্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। যারা এক সময় মিছিলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন, তারা আজ রাজনীতির ছায়া মাড়াতেও ভয় পান। এভাবে ত্যাগী নেতাদের রাজনীতি বিমুখতা এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে বাধার সৃষ্টি হওয়া পাবনা জেলা ছাত্রদলকে এক অনিশ্চিত গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ‎"তৃণমূলের দাবি: এখনই চাই আমূল পরিবর্তন! ‎পাবনা জেলা ছাত্রদলে এই অচলাবস্থা থেকে মুক্ত করতে হলে কেবল জেলা নয়, বরং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। তৃণমূলের হাজারো নেতাকর্মীর একটাই চাওয়া—২০১৮ সালের সেই মেয়াদোত্তীর্ণ ও অকেজো নেতৃত্বকে অব্যাহতি দিয়ে রাজপথের পরীক্ষিত, সাহসী ও নিয়মিত ছাত্রদের হাতে নতুন মশাল তুলে দেওয়া হোক। ‎ ‎তৃণমূলের শিকড় যদি নষ্ট হয়ে যায়, তবে বিশাল বড় বৃক্ষও একদিন ভেঙে পড়ে। পাবনা জেলা ছাত্রদলের অবস্থাও আজ তেমনই। পাবনার সাধারণ ছাত্রসমাজ এখন সেই নতুন ভোরের অপেক্ষায়।