চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অকশন শাখা থেকে নিলামে বিক্রি করেছে মেয়াদোত্তীর্ণের দ্বারপ্রান্তে থাকা বিপুল পরিমাণ গমের ভুষি । প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার কেজি ওজনের এই পণ্য মাত্র ৩৬ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়ায় এর মূল্য নির্ধারণ নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, তানজানিয়া থেকে আমদানি করা ১৮ হাজার ২০০ ব্যাগ গমের ভুষি (প্রতি ব্যাগ ৪০ কেজি) বিভিন্ন কন্টেইনারে সংরক্ষিত ছিল। চালানটির উৎপাদনের সময় এপ্রিল ২০২৫ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের সময় এপ্রিল ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ নিলামের সময় পণ্যটির মেয়াদ শেষ হতে খুব বেশি সময় বাকি ছিল না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অকশন শাখা পণ্যগুলোর জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করলেও শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নগরের বড়পুল এলাকার এক্সেস রোডের আলম প্লাজাস্থ ‘প্যারিস ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে মাত্র ৩৬ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েকজন মিলে সিন্ডিকেট আকারে পণ্যগুলো কেনা হয়েছে। যার মধ্যে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী তাজু সওদাগরও রয়েছেন।
এ বিষয়ে তাজু সওদাগর বলেন, চালানটি এখনও কাস্টমস থেকে খালাস হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিক্রি করে দেওয়া হবে। তার দাবি, পশুখাদ্য হিসেবে এসব পণ্য ব্যবহারে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
অন্যদিকে মেসার্স রাজধানী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ বেলাল বলেন, গমের ভুষির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি তারা জানেন। তবে তার মতে, সব পণ্য নষ্ট হয়ে যায় না। এগুলো গরুর খাদ্য হিসেবে নয়, মাছের খাদ্য হিসেবে বিক্রি করা হবে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের অকশন শাখার কর্মকর্তা মোরশেদ বলেন, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পণ্যগুলো এখনও খালাস হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই চূড়ান্ত ছাড় দেওয়া হবে।
এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদোত্তীর্ণের কাছাকাছি থাকা পশুখাদ্য বাজারজাত করার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আলমগীর।
তিনি বলেন, এ ধরনের পণ্য নিলামের আগে পরীক্ষার জন্য প্রাণিসম্পদ দপ্তরে পাঠানোর কথা। পরীক্ষা ছাড়া বাজারজাত করা নিয়মবহির্ভ‚ত।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষায় মানসম্মত থাকলে সীমিত ব্যবহারযোগ্যতা থাকতে পারে। তবে পণ্য নষ্ট হয়ে গেলে তা কোনো অবস্থাতেই পশু বা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। গরুর খাদ্য হিসেবে অনুপযোগী হলে তা মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে না। এতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে-মেয়াদোত্তীর্ণের পথে থাকা খাদ্যপণ্য কীভাবে এত কম দামে নিলামে বিক্রি হলো এবং যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া তা বাজারজাতের সুযোগ কেন তৈরি হলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পণ্য দ্রুত পরীক্ষা করে অনুপযোগী হলে ধ্বংস না করলে বড় ধরনের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।