দেশের বিনোদন জগতে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। ছোটপর্দা ও বড়পর্দার দাপুটে অভিনেতা তিনু করিম এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীর একটি 'Private Hospital'-এ চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার (৩ ডিসেম্বর) তার শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় চিকিৎসকরা কালক্ষেপণ না করে তাকে 'Life Support'-এ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন।
দীর্ঘ দুই যুগের অভিনয় জীবনে অসংখ্য চরিত্রে প্রাণ দান করা এই গুণী অভিনেতার এমন সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে শোবিজ অঙ্গনে।
অসুস্থতার সূত্রপাত ও চিকিৎসার ধরণ
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ নভেম্বর ব্যক্তিগত কাজে গ্রামের বাড়ি বরিশালে গিয়েছিলেন তিনু করিম। সেখানেই হঠাৎ তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শরীরে 'Oxygen Level' বা অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করলে দ্রুত তাকে ঢাকায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৪ নভেম্বর তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে 'Intensive Care Unit' (ICU)-তে চিকিৎসা শুরু হয়।
চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে কিছুদিন থাকার পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছিল। ফলে তাকে আইসিইউ থেকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু বুধবার (৩ ডিসেম্বর) হঠাৎ করেই তার 'Blood Pressure' (রক্তচাপ) এবং সুগার লেভেল মারাত্মকভাবে কমে যায়, যার ফলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এমতাবস্থায় তাকে পুনরায় আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা হিসেবে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
পরিবারের আকুতি ও দোয়া প্রার্থনা
প্রিয় মানুষের এমন সংকটে ভেঙে পড়েছেন তিনু করিমের স্ত্রী হুমায়রা নওশীন। গণমাধ্যমের কাছে তিনি স্বামীর সুস্থতার জন্য দেশবাসী ও ভক্তদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, "সবাই আমার সন্তানের বাবার জন্য দোয়া করবেন, যাতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।" উল্লেখ্য, তিনু করিম ও হুমায়রা নওশীন দম্পতির ১১ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে, যে এখন বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
দুই যুগের বর্ণিল ক্যারিয়ার
তিনু করিম বাংলাদেশের অভিনয় জগতে এক পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য নাম। প্রায় দুই যুগ বা ২৪ বছর ধরে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নাটক ও চলচ্চিত্রে। ২০০১ সালে ‘সাক্ষর’ নাটকের মাধ্যমে টিভি মিডিয়ায় তার অভিষেক ঘটে। সাবলীল অভিনয় ও বৈচিত্র্যময় চরিত্র রূপায়নের মাধ্যমে তিনি দ্রুতই নির্মাতাদের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
ছোটপর্দার গণ্ডি পেরিয়ে ২০১০ সালে ‘অপেক্ষা’ সিনেমার মধ্য দিয়ে তিনি 'Silver Screen' বা বড়পর্দায় নাম লেখান। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘আলতা বানু’ এবং সাম্প্রতিক সময়ের প্রশংসিত সিনেমা ‘রাত জাগা ফুল’। এছাড়া অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক ও বিজ্ঞাপনে তার উপস্থিতি দর্শক হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে তার বেশ সুনাম রয়েছে।