• আন্তর্জাতিক
  • ট্রাম্পের ‘রেড লিস্টে’ ৩০-এর বেশি দেশ! ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে আরও কঠোর হচ্ছে আমেরিকা

ট্রাম্পের ‘রেড লিস্টে’ ৩০-এর বেশি দেশ! ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে আরও কঠোর হচ্ছে আমেরিকা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ট্রাম্পের ‘রেড লিস্টে’ ৩০-এর বেশি দেশ! ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে আরও কঠোর হচ্ছে আমেরিকা

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধানের হুশিয়ারি—স্থিতিশীল সরকার ও তথ্য প্রদানে ব্যর্থ দেশগুলোর ওপর নামছে নিষেধাজ্ঞার খড়গ; ন্যাশনাল গার্ড হত্যাকাণ্ডের পরই অভিবাসনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।

আমেরিকার সীমান্ত সুরক্ষা ও অভিবাসন নীতিতে আসছে বড়সড় পরিবর্তন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আরও কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ‘ট্রাভেল ব্যান’ বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও নতুন নতুন নাম। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (Homeland Security) সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে ৩০টিরও বেশি দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টি নোম এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন। তাঁর এই বক্তব্য অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

তালিকায় ৩০-এর বেশি দেশ: কঠোর যাচাই-বাছাই

সাক্ষাৎকারে নোমকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন কি ভ্রমণ নিষিদ্ধ দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩২টি করতে যাচ্ছে? জবাবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করতে না চাইলেও ইঙ্গিত দেন যে, সংখ্যাটি ৩০-এর বেশি হবে। তিনি বলেন, ‘‘আমি এখনই সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বলব না। তবে এটুকু নিশ্চিত করতে পারি, নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশের সংখ্যা ৩০-এরও বেশি হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে দেশগুলোর তালিকা ধরে ধরে নিজেই যাচাই-বাছাই (Vetting Process) করছেন।’’

এর আগে গত জুন মাসে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন ট্রাম্প, যেখানে ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল এবং আরও সাতটি দেশের ওপর আরোপ করা হয়েছিল কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধ। সেই তালিকায় অভিবাসী ছাড়াও পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এবার সেই তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার কারণ: ‘অস্থিতিশীল সরকার’ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

কোন কোন দেশকে নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করেননি ক্রিস্টি নোম। তবে নিষেধাজ্ঞার মাপকাঠি বা ‘ক্রাইটেরিয়া’ কী হবে, তা তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন। নোম বলেন, ‘‘যেসব দেশে স্থিতিশীল সরকার (Stable Government) নেই, যাদের রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আছে এবং যারা আমাদের জানাতে ব্যর্থ হয় যে তাদের দেশ থেকে আসা ব্যক্তিরা আসলে কারা—তাদের ওপরই এই খড়গ নামবে। যদি কোনো দেশ আমাদের ‘ভেরিফিকেশন’ বা যাচাই প্রক্রিয়ায় সহায়তা না করে, তবে আমরা কেন সেই দেশের নাগরিকদের আমেরিকার মাটিতে পা রাখতে দেব?’’

ন্যাশনাল গার্ড হত্যাকাণ্ড ও ট্রাম্পের ‘জিরো টলারেন্স’

বিশ্লেষকদের মতে, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার এই তালিকা বড় করার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক ঘটনা। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনা পুরো আমেরিকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বা ইন্টেলিজেন্স (Intelligence) সূত্র অনুযায়ী, ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আফগানিস্তানের এক অভিবাসীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার পরই অভিবাসন ইস্যুতে আরও কঠোর হওয়ার ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ’ (Third World Countries) থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী অভিবাসন বন্ধ করবেন। যদিও তখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বর্তমান পদক্ষেপ সেই ঘোষণারই বাস্তবায়ন বলে মনে করছেন অনেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বা ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি’ নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন যে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ, ৩০টিরও বেশি দেশকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার এই পরিকল্পনা তারই জোরালো বার্তা।

Tags: donald trump national guard visa restrictions us travel ban kristi noem immigration policy usa news homeland security