• আন্তর্জাতিক
  • ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘ঐক্যবদ্ধ’ হওয়ার ডাক: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হিজবুল্লাহ প্রধানের চরম হুঁশিয়ারি

ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘ঐক্যবদ্ধ’ হওয়ার ডাক: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হিজবুল্লাহ প্রধানের চরম হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘ঐক্যবদ্ধ’ হওয়ার ডাক: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হিজবুল্লাহ প্রধানের চরম হুঁশিয়ারি

“হয় আত্মসমর্পণ, নয় ভূমি পুনরুদ্ধার”—লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিকে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধের আহ্বান জানালেন শেখ নাইম কাসেম।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা ধারণ করেছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী (Armed Group) হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের অব্যাহত হামলার মুখে কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না তাঁর সংগঠন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি লেবাননের সকল পক্ষকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। কাসেমের মতে, ইসরাইলের আকাশ, স্থল ও নৌপথের আগ্রাসন বন্ধ করা এখন লেবাননের অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান শর্ত।

ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে লেবানন

ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শেখ নাইম কাসেম বর্তমান সময়কে লেবাননের জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আজ আমরা এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি যেখানে আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা। হয় আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে লেবাননের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি দিয়ে দেবো, অথবা আমরা জাতীয়ভাবে জেগে উঠে আমাদের সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) এবং পবিত্র ভূমি পুনরুদ্ধার করব।”

কাসেম আরও যোগ করেন, যদি লেবাননের দক্ষিণ অংশ ইসরাইলের দখলে চলে যায়, তবে পুরো দেশের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং জাতীয় অখণ্ডতা রক্ষায় ইসরাইলি আগ্রাসন রুখে দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও হিজবুল্লাহর অবস্থান

২০২৪ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি (Ceasefire Agreement) কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ইসরাইল তা মানছে না বলে অভিযোগ করেছেন হিজবুল্লাহ প্রধান। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক বছর পার হয়ে গেছে। লেবানন আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে অনেক ছাড় দিয়েছে। কিন্তু ইসরাইল বিরতিহীন আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ (Disarmament) মূলত একটি ইসরাইলি-মার্কিন প্রকল্প। এর লক্ষ্য লেবাননের নিরাপত্তা নয়, বরং এই অঞ্চলে ইসরাইলি আধিপত্য সুসংহত করা। কাসেমের ভাষ্যমতে, হিজবুল্লাহর অস্ত্রই হচ্ছে লেবাননের আত্মরক্ষার প্রধান ঢাল এবং এই ‘রেড লাইন’ থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

হামলার ভয়াবহতা ও মানবিক বিপর্যয়

গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) লেবাননজুড়ে ইসরাইলি বাহিনী বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। ইসরাইলের দাবি, ওই হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) এক সদস্য এবং হিজবুল্লাহর এক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে এই সংঘাতে সাধারণ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এখন চরম উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘের (UN) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে ইসরাইলের হামলায় লেবাননে অন্তত ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিকসহ ৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি (ACLED) জানিয়েছে, গত এক বছরে ইসরাইল লেবাননের ভূখণ্ডে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি হামলা চালিয়েছে, যা ওই অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতিকে চরম সংকটে ফেলেছে।

একটি টেকসই সমাধানের আহ্বান

শেখ নাইম কাসেম তাঁর বক্তব্যে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য অবশ্যই যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং বন্দি মুক্তি দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মহলের নির্লিপ্ততার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসরাইলের এই একতরফা আগ্রাসন বন্ধ না হলে লেবানন তথা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।

হিজবুল্লাহ মহাসচিবের এই কড়া বার্তা এবং জাতীয় ঐক্যের ডাক লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে মেরুকরণ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tags: middle east ceasefire violation sovereignty hezbollah news naim qassem israel lebanon armed group un reports irgc regional conflict