একটি উন্নত ও ইনসাফভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্তই হলো ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য। বিভক্ত জাতি কোনোদিন বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি অভিজাত মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফ্রেন্ডস ক্লাবের বার্ষিক গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বিভক্তি নয়, চাই কার্যকর সংহতি
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে একটি দেশ পরিচালনা ও সংস্কারের ক্ষেত্রে ঐক্যের গুরুত্বকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে ফুটিয়ে তোলেন। তিনি বলেন, ‘একটি দেশকে আধুনিক Welfare State বা কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে জাতিকে অবশ্যই বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিভক্তি কখনো কোনো জাতির জন্য সুফল বয়ে আনে না। একটি বিভক্ত জাতি নিয়ে কখনোই রাষ্ট্রের সুষ্ঠু ও কার্যকর (Effective) পরিচালনা সম্ভব নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, জাতীয় অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো অভ্যন্তরীণ বিভেদ, যা রোধে সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে কাজ করতে হবে।
মতভেদ ও মতবিরোধের সূক্ষ্ম পার্থক্য
গণতান্ত্রিক সমাজে চিন্তার বৈচিত্র্যকে স্বাগত জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের মধ্যে চিন্তা বা মতের পার্থক্য (Difference of opinion) থাকতেই পারে, এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই পার্থক্য যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বা দলীয় মতবিরোধে (Conflict) রূপ না নেয়— সেদিকে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি মনে করেন, মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও একটি অভিন্ন জাতীয় লক্ষ্যে কাজ করাই হলো প্রকৃত রাজনৈতিক দূরদর্শিতা।
ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান
উপস্থিত সুধীজন ও পেশাজীবীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে একটি ইনসাফভিত্তিক (Justice-based) রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসি। যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদে সবার সমান সুযোগ থাকবে।’
বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি ও সামাজিক মেলবন্ধন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফ্রেন্ডস ক্লাবের এই গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহপাঠীদের এই মিলনমেলায় রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়। আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দেশের সংকটময় মুহূর্তে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই ও ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) রাজনৈতিক বার্তার অংশ হিসেবে দেখছেন, যা বর্তমান সময়ের অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।