• ব্যবসায়
  • রমজানের আগেই এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার তাগিদ

রমজানের আগেই এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার তাগিদ

এলপিজিকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ঘোষণা এবং লাইসেন্সিং জটিলতা দূর করার দাবি জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
রমজানের আগেই এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার তাগিদ

আসন্ন রমজান মাসের আগেই দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চলমান সংকট কেটে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তবে তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি ‘এলপিজি বাজারে নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

এলপিজি আমদানি ও তথ্যগত জটিলতা বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, দেশে কী পরিমাণ এলপিজি আমদানি হচ্ছে, সেই বিষয়ে আমদানিকারকদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) কাছে পরিবেশকদের তালিকা চাওয়া হলেও অর্ধেক সদস্য তা সরবরাহ করেননি। এই তথ্যগত ঘাটতির কারণে বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও গ্যাসের ন্যায্য দাম নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং বড় ক্রেতাদের আধিপত্যের কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এলপিজি আমদানি হ্রাস পেয়েছে।

সংকটের গভীরতা ও গ্রাহক বৃদ্ধি জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইইউবি) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. ম. তামিম তার মূল প্রবন্ধে বলেন, দেশে এলপিজির সংকট নতুন কিছু নয়, তবে সম্প্রতি এর গভীরতা আরও বেড়েছে। পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় এলপিজির ওপর দেশের মানুষের নির্ভরতা দ্রুত হারে বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ গ্রাহক থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এই সংখ্যা ৩৫ লাখে পৌঁছাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের বাধা ও প্রস্তাবনা ড. ম. তামিম আরও বলেন, এলপিজি খাতের বড় বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে একাধিক সংস্থার নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্সিং-এর জটিলতা এবং উচ্চ ফি। তিনি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে নিরাপত্তাভিত্তিক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান এলপিজিকে 'অত্যাবশ্যকীয় পণ্য' হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান। তার মতে, এটি না করা হলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি পাওয়া না যাওয়ার পেছনে ব্যবধান কোথায় হচ্ছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি।

অন্যদিকে, লোয়াবের সভাপতি আমিনুল হক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করা, উচ্চ নবায়ন ফি কমানো এবং কার্গো খালাসের সীমাবদ্ধতা দূর করার দাবি জানান। তিনি বলেন, এই বাধাগুলো দূর না হলে সংকট কাটবে না এবং নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।

Tags: bangladesh berc market stability energy-regulation lpg crisis ramzan