• ব্যবসায়
  • পোশাক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও বকেয়া বেতন নিয়ে বড় আপডেট: সময়মতো অর্থপরিশোধের নিশ্চয়তা বিজিএমইএ-র

পোশাক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও বকেয়া বেতন নিয়ে বড় আপডেট: সময়মতো অর্থপরিশোধের নিশ্চয়তা বিজিএমইএ-র

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
 পোশাক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও বকেয়া বেতন নিয়ে বড় আপডেট: সময়মতো অর্থপরিশোধের নিশ্চয়তা বিজিএমইএ-র

ফেব্রুয়ারির বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধে ইতিবাচক মালিকপক্ষ; রফতানি প্রণোদনা ছাড় নিয়ে ব্যাংকগুলোর গড়িমসিতে নজরদারির তাগিদ অর্থনীতিবিদদের।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক বা RMG খাতের শ্রমিকদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছে মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেব্রুয়ারির বকেয়া বেতন এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের বোনাস পরিশোধের বিষয়ে জোরালো আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি। একই সাথে বিজিএমইএ জানিয়েছে, 'কমপ্লায়েন্স' (Compliance) মেনে চলা কারখানাগুলো মার্চ মাসের অর্ধেক বেতনও অগ্রিম পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বেতন-বোনাস ও উৎসব ভাতার সর্বশেষ চিত্র আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলে যাতে কোনো ধরনের অসন্তোষ দানা না বাঁধে, সে লক্ষ্যে তৎপর রয়েছে মালিকপক্ষ ও প্রশাসন। বিজিএমইএ-র তথ্যমতে, মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই অধিকাংশ কারখানায় ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১২ মার্চের মধ্যে ঈদ বোনাস প্রদান নিশ্চিত করা হবে।

বিজিএমইএ-র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "চলতি বছর আমরা কোনো বড় সংকটের আশঙ্কা করছি না। মালিকপক্ষ বেতন ও বোনাসসহ মার্চ মাসের অর্ধেক বেতনও সুষ্ঠুভাবে প্রদান করতে পারবে। ফ্যাক্টরিগুলো বর্তমানে সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।" সংগঠনের পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী যোগ করেন যে, প্রতিটি কারখানায় নিবিড় 'মনিটরিং' (Monitoring) চালানো হচ্ছে যাতে আর্থিক লেনদেনে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে।

রফতানি আয়ের চ্যালেঞ্জ ও ব্যাংকিং জটিলতা যদিও বেতন-বোনাস নিয়ে ইতিবাচক বার্তা আসছে, তবে খাতের অভ্যন্তরে কিছু গভীর সংকট এখনো বিদ্যমান। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক অস্থিরতার (Global Instability) কারণে চলতি অর্থবছরে রফতানি আয় (Export Income) আশানুরূপ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকার রফতানি প্রণোদনা বা 'এক্সপোর্ট ইনসেনটিভ' (Export Incentive) বাবদ আটকে থাকা অর্থছাড়ের উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা সত্ত্বেও কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক এই অর্থছাড় করতে গড়িমসি করছে। এন জেড টেক্স গ্রুপের কর্ণধার ও বিটিএমএ-র সহ-সভাপতি সালেউদ জামান খান বলেন, "প্রণোদনার বিপুল অর্থ এখনো আটকে আছে। এই ফান্ডগুলো সময়মতো পাওয়া গেলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের তারল্য সংকট থেকে মুক্তি পেতেন।" ইনামুল হক খানও কিছু ব্যাংকের নাজুক অবস্থার কথা উল্লেখ করে জানান, ব্যাংকিং অসহযোগিতার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেতন পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ও শ্রমিক নেতাদের পর্যবেক্ষণ শ্রমিক নেতারা বর্তমান পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছেন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন জানান, বেশিরভাগ কারখানাই বেতন পরিশোধ করেছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান বোনাসও দেওয়া শুরু করেছে। তবে উৎসবের আনন্দ পূর্ণ করতে তারা মার্চ মাসের অর্ধেক বেতন সময়মতো পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা আরও জোরালো হওয়া প্রয়োজন। সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "সরকার যে আড়াই হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে, তার সুফল যেন প্রকৃত শ্রমিকরা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে সরাসরি 'ক্যাশ ইনজেকশন' (Cash Injection) বা অন্য কোনো কার্যকর উপায়ে এই অর্থ দ্রুত ছাড় করতে হবে এবং এর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি থাকতে হবে।"

চলতি অর্থবছরে সরকার তিন ধাপে তৈরি পোশাক খাতের জন্য যে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে, তার সঠিক বণ্টনই নিশ্চিত করতে পারে ঈদ পূর্ববর্তী শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা। শিল্প মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষই এখন তাকিয়ে আছে ব্যাংকিং খাতের সহযোগিতার দিকে।

Tags: bangladesh bank rmg sector labor rights export incentive bgmea news eid bonus textile industry worker salary