• আন্তর্জাতিক
  • ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন অনিবার্য’: খামেনি শাসনের অবসানে আমেরিকাকে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর আহ্বান রেজা পাহলভির

‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন অনিবার্য’: খামেনি শাসনের অবসানে আমেরিকাকে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর আহ্বান রেজা পাহলভির

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন অনিবার্য’: খামেনি শাসনের অবসানে আমেরিকাকে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর আহ্বান রেজা পাহলভির

ইরানের শেষ শাহ-পুত্রের হুঙ্কার; রক্তপাত এড়াতে ও বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষায় বিপ্লবী গার্ডের ওপর সরাসরি হামলার অনুরোধ ওয়াশিংটনকে।

ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে দাবি করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের চূড়ান্ত পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন নির্বাসিত শাহ-পুত্র রেজা পাহলভি। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুগের অবসান ঘটাতে এবং সাধারণ মানুষের রক্তপাত কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের এই সাবেক রাজপুত্র বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।

বিপ্লবী গার্ডের ওপর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর দাবি

সংবাদ সম্মেলনে রেজা পাহলভি ইরানের শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) বা বিপ্লবী গার্ডের ওপর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ (Surgical Strike) চালানোর জন্য মার্কিন প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। তিনি যুক্তি দেন যে, এই বাহিনীর কৌশলগত অবস্থানগুলোতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালালে বিক্ষোভকারীদের কাজ সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব হবে।

পাহলভি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবেই, এটি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার জন্য লড়ছি না, বরং ইরানকে স্বাধীন হতে সহায়তা করছি। ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কে দেবেন, তা ইরানের জনগণই স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করবেন।”

ট্রাম্পের অবস্থান ও ‘৮০০ ফাঁসি’ বাতিল প্রসঙ্গ

ইরান ইস্যুতে উত্তেজনার পারদ চড়লেও সরাসরি সামরিক হামলা এড়িয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, সামরিক হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্তটি তিনি সম্পূর্ণ নিজে থেকে নিয়েছেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, “কেউ আমাকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে রাজি করায়নি। ইরান গতকাল ৮০০-এর বেশি মানুষকে ফাঁসি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। ফাঁসিগুলো কার্যকর না হওয়ার খবরটি আমার সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে।” তবে ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে এখনও ‘সব বিকল্প ব্যবস্থা’ (All Options on Table) খোলা আছে এবং নতুন করে সহিংসতা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে ওয়াশিংটন।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার আশঙ্কা ও কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে—এমন আশঙ্কায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে সৌদি আরব ও কাতার। দুই দেশই মনে করছে, সরাসরি সামরিক সংঘাতের ফলে উদ্ভূত ‘জিওপলিটিক্যাল’ (Geopolitical) সংকট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েলও এই ইস্যুতে তাদের কূটনৈতিক ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

অর্থনৈতিক সংকট থেকে গণআন্দোলন

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ইরানের অর্থনৈতিক মন্দা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে যে বিক্ষোভের শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা এবং খামেনি শাসনের বিরুদ্ধে এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বিক্ষোভ দমনে সরকারের সহিংস অভিযানে পরিস্থিতি কিছুটা থিতু মনে হলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখনো প্রশমিত হয়নি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেজা পাহলভির এই সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আবারও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। খামেনি যুগের অবসান কি সন্নিকটে, নাকি নতুন কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথে এগোচ্ছে পারস্য উপসাগরীয় এই দেশটি—সেটাই এখন দেখার বিষয়।