স্মার্টফোনের ক্ষণস্থায়ী বিনোদনে শিশুরা শান্ত থাকলেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। 'পেডিয়াট্রিকস' জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক নানা সমস্যা প্রকট হয়ে উঠছে। ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. রান বারজিলে এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন।
স্মার্টফোন ব্যবহারের ঝুঁকির পরিসংখ্যান গবেষক দল স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ও ব্যবহার না করা শিশুদের মধ্যে তুলনা করে তিনটি প্রধান ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন: ১. ঘুমের অভাব: স্মার্টফোন ব্যবহারকারী শিশুদের ঘুমের সমস্যার ঝুঁকি ১.৬ গুণ বেশি। ২. স্থূলতা: এসব শিশুদের ওজন বাড়ার বা স্থূল হওয়ার সম্ভাবনা ১.৪ গুণ বেশি। ৩. বিষণ্নতা: মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনের ঝুঁকি ১.৩ গুণ বেশি।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা ১২ বছর বয়সে ফোন না পেয়ে ১৩ বছর বয়সে পেয়েছে, তাদের মধ্যেও কিছুটা মানসিক পরিবর্তনের লক্ষণ ধরা পড়েছে। তবে যত কম বয়সে ফোন হাতে পায়, ঝুঁকির মাত্রা তত বেশি হয়।
শিশুর বিষণ্নতার লক্ষণগুলো কী কী? আপনার সন্তান বিষণ্নতায় ভুগছে কি না, তা বুঝতে নিচের লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রাখুন:
- সবসময় মেজাজ খিটখিটে থাকা বা অকারণে কান্নাকাটি করা।
- আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং নিজেকে দোষারোপ করা (যেমন: 'আমি কিছুই পারি না' বা 'সব আমার দোষ')।
- স্কুলে পড়াশোনায় অনীহা এবং আগে যেসব কাজে আনন্দ পেত, সেগুলোতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
- খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আসা।
- কোনো শারীরিক কারণ ছাড়াই প্রায়ই পেটব্যথা বা মাথাব্যথা হওয়া।
অভিভাবকদের জন্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গবেষক ড. রান বারজিলে পরামর্শ দিয়েছেন যে, সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। অভিভাবকদের জন্য কিছু বিশেষ টিপস হলো:
- শোবার ঘরে ফোন নিষিদ্ধ: রাতে ঘুমানোর সময় শিশুর ঘরে স্মার্টফোন রাখা যাবে না।
- বিকল্প কাজে উৎসাহ: স্ক্রিন টাইমের পরিবর্তে খেলাধুলা বা বই পড়ার মতো সৃজনশীল কাজে শিশুকে ব্যস্ত রাখুন।
- খোলামেলা আলোচনা: সন্তান মানসিকভাবে ফোন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
- একত্রে সময় কাটানো: প্রতিদিন নিয়ম করে সন্তানের সাথে গল্প করুন বা হাঁটতে যান। এতে তাদের মানসিক বন্ধন দৃঢ় হয় এবং বিষণ্নতার ঝুঁকি কমে।
স্মার্টফোন তথ্যের সহজলভ্যতা দিলেও এর অপব্যবহার শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে। তাই সময় থাকতেই সচেতন হওয়া জরুরি।