দৈনন্দিন জীবনে সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার সময় আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া বা হাঁপিয়ে ওঠার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল সাধারণ মানুষের নয়, পেশাদার অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলেট এমিলিয়া বনিও একবার জানিয়েছিলেন যে, কয়েক তলা সিঁড়ি ওঠার পর তিনিও শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন।
পেশীর গঠন ও ফাস্ট-টুইচ ফাইবারের ভূমিকা মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর টিমোথি জে. মাইকেলের মতে, মানুষের পেশীতে মূলত দুই ধরনের ফাইবার থাকে। একটি হলো 'স্লো-টুইচ ফাইবার', যা দীর্ঘক্ষণ শরীরকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। অন্যটি হলো 'ফাস্ট-টুইচ ফাইবার'। এই ফাইবারগুলো তখন সক্রিয় হয় যখন শরীরকে হঠাৎ কোনো শক্তিশালী বা দ্রুত কাজ করতে হয়, যেমন লাফ দেওয়া বা সিঁড়ি চড়া। সিঁড়ি ওঠার সময় এই ফাস্ট-টুইচ ফাইবারগুলো দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে আমরা হাঁপিয়ে উঠি।
মহাকর্ষ বলের বিরুদ্ধে লড়াই মাটি বরাবর হাঁটা বা দৌড়ানোর তুলনায় সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠা শরীরের জন্য অনেক বেশি কষ্টসাধ্য। কারণ সমতলে চলার সময় আমাদের কেবল সামনের দিকে এগোতে হয়, কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় আমাদের শরীরের সম্পূর্ণ ওজন মহাকর্ষ বলের বিপরীতে উপরে তুলতে হয়। এই অতিরিক্ত কাজ করতে গিয়ে পা এবং হৃদপিণ্ডের ওপর বিপুল চাপ পড়ে।
শরীরের প্রস্তুতির অভাব যেকোনো অ্যাথলেট কোনো বড় প্রতিযোগিতার আগে শরীরকে 'ওয়ার্ম-আপ' বা প্রস্তুত করে নেন। কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে ওঠার ঘটনাটি ঘটে হুট করে। শরীর আগে থেকে প্রস্তুত থাকে না বলে হঠাৎ করে অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। এই অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে ফুসফুস দ্রুত কাজ শুরু করে, যা আমাদের হাঁফিয়ে ওঠার প্রধান কারণ।
অপ্রচলিত পেশীর ব্যবহার সমতলে হাঁটার সময় আমরা সাধারণত যেসব পেশী ব্যবহার করি, সিঁড়ি ওঠার সময় তার চেয়ে ভিন্ন কিছু পেশী সক্রিয় হয়। ফিজিওলজিস্টদের মতে, সিঁড়ি ওঠার সময় শরীরে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং হাইড্রোজেনের সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়, ফলে দ্রুত ক্লান্তি অনুভূত হয়।
ঘাম ও ফিটনেস বিভ্রান্তি অনেকে মনে করেন সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় ঘাম হওয়া মানে তিনি শারীরিকভাবে আনফিট। বিশেষজ্ঞরা এই ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে, ঘাম হওয়া শরীরের একটি শীতলীকরণ প্রক্রিয়া। একজন ফিট ব্যক্তির শরীর অনেক সময় দ্রুত কাজ করার জন্য দ্রুত ঘাম নিঃসরণ করতে পারে।
উপসংহার সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় শ্বাস ফোলার সমস্যাটি মূলত পেশীর বিশেষ প্রতিক্রিয়া এবং অক্সিজেনের তাৎক্ষণিক চাহিদার কারণে ঘটে। এটি শরীরের কোনো বড় রোগ নয়, বরং একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। তবে নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস পেশীর সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করতে পারে।