• বিনোদন
  • গাজা ইস্যুতে অনড় অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্রে আজীবন নিষিদ্ধ ইসরায়েলি কমেডিয়ান গাই হোচম্যান

গাজা ইস্যুতে অনড় অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্রে আজীবন নিষিদ্ধ ইসরায়েলি কমেডিয়ান গাই হোচম্যান

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
গাজা ইস্যুতে অনড় অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্রে আজীবন নিষিদ্ধ ইসরায়েলি কমেডিয়ান গাই হোচম্যান

ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি; বেভারলি হিলসের থিয়েটার থেকে আজীবন বহিষ্কৃত এই বিতর্কিত শিল্পী।

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান গণহত্যা, নিপীড়ন এবং মানবাধিকর লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধের নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলি কমেডিয়ান গাই হোচম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলসের বিখ্যাত ‘ফাইন আর্টস থিয়েটার’ (Fine Arts Theatre) কর্তৃপক্ষ তাকে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল তার নির্ধারিত শো বাতিলই হয়নি, বরং তার পেশাদার ক্যারিয়ারে একটি বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শর্ত বনাম আদর্শ: কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে বেভারলি হিলসের ওই ভেন্যুতে হোচম্যানের একটি বিশেষ স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো হওয়ার কথা ছিল। তবে শো শুরুর আগে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘স্ক্রিনিং সার্ভিসেস গ্রুপ’ (Screening Services Group) হোচম্যানের সামনে একটি শর্ত জুড়ে দেয়। তারা দাবি করে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, তার প্রতিবাদে হোচম্যানকে তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে (Social Media) একটি স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।

কিন্তু এই ইসরায়েলি শিল্পী ফিলিস্তিনিদের ওপর হওয়া অন্যায়ের নিন্দা জানাতে বা তাদের মানবাধিকারের পক্ষে কোনো পোস্ট দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। তার এই অনমনীয় অবস্থানের কারণেই শেষ মুহূর্তে থিয়েটার কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান: ‘গণহত্যার বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স’

থিয়েটারটির প্রেসিডেন্ট মাইকেল এস হল এক কড়া বিবৃতিতে এই নিষেধাজ্ঞার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, তারা কোনোভাবেই এমন কাউকে তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে দেবেন না, যিনি মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়াতে কুণ্ঠিত। মাইকেল বলেন, “হোচম্যান ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্যাতনের নিন্দা জানাতে রাজি হননি। আমরা যেকোনো ধরনের জেনোসাইড বা গণহত্যার বিরুদ্ধে অত্যন্ত সোচ্চার। তাই তাকে আমাদের ভেন্যুতে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

অনড় হোচম্যান: ক্যারিয়ারের চেয়ে ‘জাতীয়তাবাদ’ বড়?

শো বাতিল এবং আজীবন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েও নিজের বিতর্কিত অবস্থান থেকে এক চুলও সরেননি গাই হোচম্যান। বরং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টিকে তিনি একটি ‘আনুগত্যের পরীক্ষা’ (Loyalty Test) হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলা মানে নিজের দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা। হোচম্যানের মতে, বৈশ্বিক ক্যারিয়ারের চেয়ে তার কাছে স্বজাতির উগ্র জাতীয়তাবাদ ও আনুগত্যের মূল্য অনেক বেশি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

হোচম্যানের এই উস্কানিমূলক অবস্থানের পর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ইসরায়েলি সমর্থকরা তাকে ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী এবং সাধারণ নেটিজেনরা তার এই অবস্থানকে ‘বিদ্বেষমূলক’ বলে মন্তব্য করছেন। বিশেষ করে গাজায় নারী ও শিশুদের ওপর হওয়া সহিংসতার বিষয়ে নিশ্চুপ থাকাকে অমানবিক বলে মনে করছেন অনেকে।

গ্লোবাল এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এবং ভূ-রাজনীতি

বর্তমান সময়ে গাজা-ইসরায়েল ইস্যুটি বৈশ্বিক বিনোদন জগতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। ‘ক্যান্সেল কালচার’ (Cancel Culture) বা বয়কট আন্দোলনের মুখে পড়ছেন এমন অনেক তারকা, যারা মানবতার পক্ষে দাঁড়াতে ব্যর্থ হচ্ছেন। গাই হোচম্যানের ওপর এই আজীবন নিষেধাজ্ঞা সেই ডিজিটাল ডিসকোর্সেরই একটি অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে অন্যান্য ইসরায়েলি শিল্পীদের জন্যও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Tags: social media israel palestine human rights gaza conflict beverly hills guy hochman us ban standup comedy