কতিপয় প্রার্থী ও দলের এ কৌশল অনেকটা ‘কইয়ের তেল দিয়ে কই ভাজা’র মতো। তারা ভোটে দাঁড়িয়ে জনসাধারণের কাছ থেকেই টাকা নিয়ে খরচ যোগানের আহ্বান জানানো হচ্ছে। ‘ক্রাউডফান্ডিং’ নামের এই কৌশলে অনেকে সফলও হচ্ছেন।
ক্রাউডফান্ডিং কী ক্রাউডফান্ডিং বা গণতহবিল হচ্ছে কোনো উদ্যোগ সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য ছোট ছোট অনুদান সংগ্রহ; যা সাধারণ মানুষের কাছে চাওয়া হয়। সাধারণত এই অর্থ ফেরত দেওয়া হয় না। পশ্চিমা বিশ্বে এই কৌশল প্রথম দিকে ব্যবসায় শুরু হয়েছিল। পরে তা রাজনৈতিক কার্যক্রমেও চর্চিত হতে দেখা যায়।
২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে স্বল্প পরিসরে ক্রাউডফান্ডিং দেখা যায়। তবে দুই বছরের মাথায় দেশটিতে আবার নির্বাচন ডাকা হলে আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যায় ক্রাউডফান্ডিং। এসময় গ্রিন এমইপির মলি স্কট ও তার দলকে ক্রাউডফান্ডিং করতে দেখা যায়। সাবেক লেবার এমপি পিটার কাইল, মারিয়া ইগল ও রাসেল রিইভ এবং ফিল একার্সলিকেও ক্রাউডফান্ডিংয়ে দেখা যায়।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের আরও কিছু অঞ্চলে জনসাধারণের কাছ থেকে নির্বাচনী খরচ সংগ্রহের নজির দেখা গেছে বিগত সময়ে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নির্বাচনেও কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ‘ডোনেট ফর দেশ’ নামে দলটি গণতহবিল সংগ্রহ করে সফল হয়।
বাংলাদেশের নির্বাচনেও যে এটি একেবারেই ছিল না, তা নয়। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে জনসমাবেশে ভোটার, সমর্থকরা নিজ উদ্যোগে অল্প অল্প করে অর্থ দান করে প্রার্থীদের তহবিল গড়ে দিত।
তবে ২০২৫ সালে এসে অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। ক্রাউডফান্ডিংয়ে এগিয়ে যারা ক্রাউডফান্ডিং করে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। দলটি থেকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর আলোচনার শুরুতেই তিনি ঢাকা-৯ আসনের ভোটারদের কাছে অর্থ দানের আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানানোর কয়েক দিনের মধ্যেই অনুদান পেয়ে যান ৪৭ লাখ টাকা। যদিও এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার পর এখন সেই টাকা ফেরত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকের টাকা আবার ফেরতও দিয়েছেন জারা।
ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত নেতা শরীফ ওসমান হাদীও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন। এদিকে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি দলগতভাবেই ক্রাউড ফান্ডিংয়ের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির প্রার্থীরাও পৃথকভাবে সংগ্রহ করছেন গণতহবিল। আমজনতার দলের মো. তারেক রহমানও ঘোষণা দিয়ে তহবিল সংগ্রহ করছেন। একইভাবে গণতহবিল সংগ্রহে বেশ সফল হয়েছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদও।