• কর্পোরেট কর্নার
  • প্যাকেজিং ও প্লাস্টিক শিল্প মেলায় গুরুত্ব পেল রপ্তানি সম্ভাবনা ও এসএমই নীতি সহায়তা

প্যাকেজিং ও প্লাস্টিক শিল্প মেলায় গুরুত্ব পেল রপ্তানি সম্ভাবনা ও এসএমই নীতি সহায়তা

আইসিসিবি-তে চলমান বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প মেলার দ্বিতীয় দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত, যেখানে বিশেষজ্ঞরা রপ্তানি বৃদ্ধি ও এসএমই খাতের উন্নয়নের ওপর জোর দেন।

কর্পোরেট কর্নার ১ মিনিট পড়া
প্যাকেজিং ও প্লাস্টিক শিল্প মেলায় গুরুত্ব পেল রপ্তানি সম্ভাবনা ও এসএমই নীতি সহায়তা

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে আয়োজিত ১৮তম বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প মেলার দ্বিতীয় দিনে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্লাস্টিক প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (পিপিবিপিসি), এসএমই ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারগুলোতে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ও নীতি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্যাকেজিং খাতে রপ্তানি সম্ভাবনা ও চিহ্নিতকরণ

দিনের প্রথম সেমিনারের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল 'প্যাকেজিং খাতে রপ্তানি সম্ভাবনা ও সম্ভাব্য পণ্য চিহ্নিতকরণ'। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-এর সহকারী অধ্যাপক ড. ওয়াসেল বিন শাদাত (PhD)।

তিনি তার উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাজারে প্যাকেজিং শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্যাকেজিং, পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ এই খাতে বড় ধরনের রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। নতুন বৈদেশিক বাজারে প্রবেশ করতে হলে রপ্তানিযোগ্য পণ্য চিহ্নিতকরণ ও বাজারভিত্তিক গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এসএমই প্রবৃদ্ধি ও প্লাস্টিক খাত উন্নয়ন নীতি

একই দিনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিনারের মূল বিষয় ছিল 'এসএমই প্রবৃদ্ধি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্লাস্টিক খাত উন্নয়ন নীতি'। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রিন ওয়াচ কনসালট্যান্টস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রকৌশলী মো. এলিয়াস হোসেন।

তিনি বলেন, দেশের প্লাস্টিক শিল্প মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) নির্ভর। তাই এসএমই প্রবৃদ্ধি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর মতে, প্রযুক্তি আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে প্লাস্টিক খাত আরও টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ ও মতবিনিময়

দ্বিতীয় সেমিনারের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বুয়েটের আইপিই-এর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাসুদ এবং এফএম প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. গাজী তৌহিদুর রহমান। উভয় সেমিনারেই সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিল্প উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পের চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

মেলায় দেশি-বিদেশি স্টলের সমাহার

উল্লেখ্য, চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক মেলায় চীন, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্যসহ মোট ১৮টি দেশের ৩৯০টির বেশি ব্র্যান্ডের প্রায় ৮০০টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় প্লাস্টিকের গৃহস্থালি পণ্য, প্যাকেজিং সামগ্রী, প্লাস্টিক মোল্ড, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, প্লাস্টিক যন্ত্রপাতি ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে। এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

Tags: bangladesh dhaka সেমিনার export potential international plastic packaging and printing industry fair iccb sme policy packaging industry plastic industry