• জীবনযাপন
  • ডিজিটাল ডিভাইসে দিনভর আসক্তি? চোখের মারাত্মক ক্ষতি এড়াতে মেনে চলুন এই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

ডিজিটাল ডিভাইসে দিনভর আসক্তি? চোখের মারাত্মক ক্ষতি এড়াতে মেনে চলুন এই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
ডিজিটাল ডিভাইসে দিনভর আসক্তি? চোখের মারাত্মক ক্ষতি এড়াতে মেনে চলুন এই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

অফিসিয়াল কাজ কিংবা পড়াশোনা—স্ক্রিন টাইম কমানো প্রায় অসম্ভব হলেও সহজ কিছু অভ্যাসে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব আপনার অমূল্য দৃষ্টিশক্তি।

বর্তমান বিশ্ব এখন আক্ষরিক অর্থেই ডিজিটাল স্ক্রিনের ওপর নির্ভরশীল। সকালের অ্যালার্ম থেকে শুরু করে গভীর রাতের বিনোদন—স্মার্টফোন, ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনা করাও দুঃসাধ্য। বিশেষ করে করপোরেট পেশাজীবী এবং শিক্ষার্থীদের দিনের বড় একটি অংশ কাটে এই ‘ব্লু লাইট’ (Blue Light) নির্গত হওয়া স্ক্রিনগুলোর দিকে তাকিয়ে। ফলস্বরূপ, খুব অল্প বয়সেই দেখা দিচ্ছে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ (Digital Eye Strain), দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এবং ক্রনিক মাথাব্যথার মতো জটিল সমস্যা।

পুরোপুরি প্রযুক্তি বর্জন করা সম্ভব না হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই চোখের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি রোধ করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদন ও চক্ষু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডিজিটাল যুগে চোখের সুরক্ষায় ১০টি কার্যকর কৌশল নিচে তুলে ধরা হলো:

১. বিখ্যাত ‘২০-২০-২০’ ফর্মুলা অনুসরণ কাজের চাপে আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি। চোখের ওপর চাপ কমাতে মেনে চলুন ‘২০-২০-২০’ নিয়ম। প্রতি ২০ মিনিট কাজ করার পর অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের পেশিগুলো শিথিল হওয়ার সুযোগ পায়।

২. সচেতনভাবে চোখের পলক ফেলা সাধারণত আমরা মিনিটে ১৫-২০ বার চোখের পলক ফেলি। কিন্তু ডিজিটাল স্ক্রিনে মনোনিবেশ করার সময় এই হার অনেকটাই কমে যায়। ফলে চোখ শুষ্ক বা ‘ড্রাই আই’ (Dry Eye) সমস্যায় ভোগে। তাই কাজ করার সময় সচেতনভাবে ঘন ঘন পলক ফেলার অভ্যাস করুন।

৩. স্ক্রিন ব্রাইটনেস ও নাইট মোড অতিরিক্ত উজ্জ্বল স্ক্রিন চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আপনার ডিভাইসের ব্রাইটনেস চারপাশের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখুন। সন্ধ্যার পর ডিভাইসে ‘নাইট মোড’ (Night Mode) বা ‘ব্লু লাইট ফিল্টার’ ব্যবহার করুন, যা ক্ষতিকর নীল রশ্মির প্রভাব কমিয়ে দেয়।

৪. আলোর প্রতিফলন নিয়ন্ত্রণ ঘরের লাইট বা জানালার আলো সরাসরি স্ক্রিনে পড়লে এক ধরনের ‘গ্লেয়ার’ বা প্রতিফলন সৃষ্টি হয়, যা চোখের জন্য যন্ত্রণাদায়ক। অ্যান্টি-গ্লেয়ার স্ক্রিন প্রোটেক্টর ব্যবহার করুন এবং খেয়াল রাখুন যেন স্ক্রিনের ওপর বাড়তি আলোর রিফ্লেকশন না হয়।

৫. দীর্ঘ বিরতি ও বিশ্রাম টানা দুই ঘণ্টা কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করার পর অন্তত ১৫ মিনিটের একটি বিরতি নিন। এই সময়ে চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে পারেন অথবা স্ক্রিন থেকে দূরে অন্য কোনো কাজ করতে পারেন।

৬. পর্যাপ্ত আলোতে কাজ করা অন্ধকারে বা স্বল্প আলোতে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহারের অভ্যাস চোখের কর্নিয়ার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। সর্বদা পর্যাপ্ত আলো রয়েছে এমন স্থানে বসে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

৭. সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা স্ক্রিন এবং চোখের মধ্যে আদর্শ দূরত্ব হওয়া উচিত কমপক্ষে ২৫ ইঞ্চি বা প্রায় এক হাতের সমান। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহারের সময় স্ক্রিনটি চোখের উচ্চতা থেকে সামান্য নিচের দিকে রাখা উত্তম।

৮. নীল রশ্মি প্রতিরোধক চশমা যাঁদের দীর্ঘসময় স্ক্রিনের সামনে থাকতে হয়, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্লু-লাইট ব্লকিং লেন্স (Blue Light Blocking Glasses) ব্যবহার করতে পারেন। এটি ডিজিটাল রেডিয়েশন থেকে চোখকে সুরক্ষা দেয়।

৯. হাইজিন ও পানির ঝাপটা দিনের ক্লান্তি কাটাতে এবং চোখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে মাঝে মাঝে চোখে পরিষ্কার পানির ঝাপটা দিন। এটি চোখের শুষ্কতা কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

১০. পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস চোখ ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে ভিটামিন-এ, সি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার ডায়েটে রাখুন। সবুজ শাকসবজি, বাদাম, গাজর এবং কমলালেবুর মতো ফল চোখের রেটিনা ও কর্নিয়া ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ডিজিটাল বিপ্লবের এই যুগে প্রযুক্তিকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়, তবে সচেতনতাই হতে পারে আপনার চোখের রক্ষাকবচ। ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত চর্চা করলে বার্ধক্যের আগে চোখের বড় কোনো সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

Tags: eye care blue light digital health tech tips vision protection dry eye health lifestyle mobile safety