• জীবনযাপন
  • সম্পর্কে ফাটল ধরছে তুচ্ছ ভুলে? ভুল বোঝাবুঝি দূর করে হারানো উষ্ণতা ফেরানোর ৪টি অব্যর্থ কৌশল

সম্পর্কে ফাটল ধরছে তুচ্ছ ভুলে? ভুল বোঝাবুঝি দূর করে হারানো উষ্ণতা ফেরানোর ৪টি অব্যর্থ কৌশল

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
সম্পর্কে ফাটল ধরছে তুচ্ছ ভুলে? ভুল বোঝাবুঝি দূর করে হারানো উষ্ণতা ফেরানোর ৪টি অব্যর্থ কৌশল

ইগো ভুলে সুস্থ আলোচনা আর সহমর্মিতাই হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের চাবিকাঠি; জেনে নিন সঙ্গীর সঙ্গে 'কমিউনিকেশন গ্যাপ' কমানোর আধুনিক উপায়

মানুষের রুচি, চিন্তা-চেতনা এবং ব্যক্তিত্বের ভিন্নতা থাকাটাই স্বাভাবিক। আর এই ভিন্নতা নিয়েই দুজন মানুষ যখন একটি অভিন্ন সম্পর্কে (Relationship) আবদ্ধ হন, তখন মাঝেমধ্যে মতের অমিল হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এই অমিল যখন দীর্ঘস্থায়ী 'ভুল বোঝাবুঝিতে' রূপ নেয়, তখনই বিপত্তি ঘটে। ছোট ছোট সংশয় থেকে তৈরি হওয়া দূরত্ব অনেক সময় বড় বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সম্পর্কের সুস্থতা বজায় রাখতে ভুল বোঝাবুঝি জিইয়ে না রেখে দ্রুত সমাধান করা জরুরি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'টাইমস অব ইন্ডিয়া' (Times of India) সম্পর্কে তিক্ততা দূর করার কার্যকর কিছু কৌশলের কথা জানিয়েছে।

অনুমান নয়, তথ্যে বিশ্বাস রাখুন

অনেক সময় আমরা সঙ্গীর কোনো আচরণ বা কথাকে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করি, যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘অ্যাসাম্পশন’ (Assumption)। সঙ্গী কেন এমন করল বা কেন এমন বলল, তা সরাসরি তাকে জিজ্ঞেস না করে মনের মধ্যে ভুল ধারণা পুষে রাখলে দূরত্ব বাড়ে। তাই কোনো বিষয়ে সন্দেহ বা খটকা লাগলে তা অনুমানের ওপর ছেড়ে না দিয়ে সরাসরি কথা বলে পরিষ্কার (Validate) করে নিন। এতে অপ্রয়োজনীয় তিক্ততা এড়ানো সম্ভব।

ভিন্ন মতকে সম্মান জানানোর মানসিকতা

মনে রাখবেন, আপনাদের দুজনের বেড়ে ওঠা বা জীবনদর্শন আলাদা হতে পারে। কোনো বিষয়ে মতের অমিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে সঙ্গী ভুল। সব সময় ‘কে ঠিক আর কে ভুল’—এই প্রতিযোগিতায় না নেমে সঙ্গীর দৃষ্টিকোণ (Perspective) থেকে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করুন। মতপার্থক্য দেখা দিলে জেদ না ধরে সাময়িক বিরতি নিন। উত্তেজিত অবস্থায় কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঠান্ডা মাথায় আলোচনা করলে জটিল সমস্যারও সহজ সমাধান সম্ভব।

সমালোচনার বদলে প্রশংসায় মনোযোগ

একসঙ্গে পথ চলতে গেলে একে অন্যের সবল ও দুর্বল—উভয় দিকই প্রকাশিত হয়। সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি তখনই বাড়ে, যখন আমরা কেবল সঙ্গীর ভুলত্রুটি বা দুর্বলতাগুলো নিয়ে বেশি ব্যবচ্ছেদ করি। সবসময় দোষারোপ করলে সম্পর্কে একঘেয়েমি ও নেতিবাচকতা চলে আসে। এর বদলে সঙ্গীর ইতিবাচক গুণগুলোর প্রশংসা করুন। তিনি যখন বুঝতে পারবেন আপনি তার সীমাবদ্ধতাগুলো জানেন এবং তা সত্ত্বেও তাকে শ্রদ্ধা করেন, তখন আপনাদের মধ্যকার বন্ডিং (Bonding) আরও দৃঢ় হবে।

ইগো ত্যাগ করে আলোচনার উদ্যোগ নিন

ভুল বোঝাবুঝি হলে সাধারণত দেখা যায় ‘আগে কে কথা বলবে’—এই ইগো (Ego) বা অহমিকা নিয়ে দুজনই চুপ করে থাকেন। দীর্ঘ নীরবতা সম্পর্কের জন্য বিষের মতো কাজ করে। ‘ভুল যেহেতু তার, আমি কেন আগে যাব?’—এই মানসিকতা ঝেড়ে ফেলুন। সমাধানের জন্য আগে এগিয়ে আসা কোনো পরাজয় নয়, বরং এটি আপনার সম্পর্কের প্রতি দায়িত্বশীলতারই প্রমাণ। কোনো রকম ব্লেম গেম (Blame Game) বা দোষারোপ ছাড়াই আলোচনার প্রস্তাব দিন এবং সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শোনার (Active Listening) চেষ্টা করুন।

একটি সুখী সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো স্বচ্ছ যোগাযোগ এবং একে অপরের প্রতি নিঃশর্ত শ্রদ্ধা। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলো আপনার ব্যক্তিগত জীবনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাদুর মতো কাজ করতে পারে।

Tags: communication gap mental health relationship advice emotional intelligence relationship tips couple goals healthy bonding family lifestyle resolving conflicts ego in relationship