প্রেক্ষাপট ও হত্যাকাণ্ডের শিকার যারা গত ১৯ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের রাজানগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আমেনা বেগম (৩২) ও তাঁর মেয়ে মরিয়ম আক্তার (৮)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর আমেনার মা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সিরাজদিখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের দাবি: কেন ঘটল হত্যাকাণ্ড? শুক্রবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেনহাজুল আলম জানান, উচ্চ শব্দে মুঠোফোন ব্যবহার করা এবং শিশুটির সঙ্গে চেঁচামেচির কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ সুপার বলেন, আমেনা বেগম রাতে তাঁর কক্ষে উচ্চ শব্দে নাটক দেখতেন ও গান শুনতেন। এ ছাড়া রাতে ও সকালে তিনি মেয়ের সঙ্গেও উচ্চ স্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে কথা বলতেন। এতে পাশের কক্ষের ভাড়াটে মোহাম্মদ আলীর প্রতিদিন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটত।
ঘটনার বিবরণ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের এই বিরক্তি মোহাম্মদ আলীর মধ্যে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ঘটনার দিন, অর্থাৎ ১৯ জানুয়ারি সকাল সাতটার দিকে আমেনা বেগম উচ্চ শব্দে তাঁর মুঠোফোনে ভিডিও দেখছিলেন। এতে মোহাম্মদ আলীর ঘুম ভেঙে যায় এবং তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমেনার কক্ষে প্রবেশ করে ফোনের শব্দ কমাতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মোহাম্মদ আলী ক্ষিপ্ত হয়ে পাশে থাকা কাঠের টুকরা দিয়ে আমেনার মাথায় সজোরে আঘাত করেন, এতে ঘটনাস্থলেই আমেনা মারা যান। মেয়ে মরিয়ম এই ঘটনা দেখে আতঙ্কিত হয়ে তাঁর মাকে বাঁচাতে আলীর পা জড়িয়ে ধরে মিনতি জানালেও, মোহাম্মদ আলী তাকেও একই কাঠের ডাসা দিয়ে মাথায় একাধিক আঘাত করে হত্যা করেন।
গ্রেপ্তার ও অভিযুক্তের পরিচয় ঘটনার পর থেকে প্রতিবেশী ভাড়াটে মোহাম্মদ আলীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তদন্তের একপর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গজারিয়ার পাখির মোড় এলাকা থেকে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তিনি মা ও মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। পুলিশ জানায়, মোহাম্মদ আলী সিরাজদিখানের সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও রাজানগরে ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন। তিনি ভবঘুরে ও মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার পর তিনি একের পর এক স্থান পরিবর্তন করছিলেন এবং বাগান ও স্কুলের বারান্দায় রাত যাপন করছিলেন।