বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের বিদেশি বিশেষত আধিপত্যবাদী শক্তির হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত বাংলাদেশে সরকার কে গঠন করবে, তা নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা রাখে এদেশের সাধারণ জনগণ। কোনো বাহ্যিক শক্তি যদি নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে, তবে দেশপ্রেমিক জনতা তা রাজপথেই প্রতিহত করবে।
বিদেশি হস্তক্ষেপ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন
সম্প্রতি এক রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বিগত ১৬ বছরের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট টেনে পার্শ্ববর্তী দেশের নানামুখী তৎপরতার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিগত দেড় দশক ধরে একটি নির্দিষ্ট দেশ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জনআকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসেছে। এমনকি সম্প্রতি একজন কূটনীতিক (Diplomat) মন্তব্য করেছেন যে, ১১ দলীয় জোট ভোট চুরি ছাড়া ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এর মাধ্যমে তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষাবলম্বন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালাচ্ছে।”
নাহিদ ইসলাম আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এ ধরনের অযাচিত মন্তব্য এবং আধিপত্যবাদী (Hegemony) আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন।”
সংস্কার প্রক্রিয়া ও ১১ দলীয় জোটের প্রাসঙ্গিকতা
বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কার (Reform) ও ১১ দলীয় জোট গঠনে ড. তাহের যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তা অবিস্মরণীয়। তার এই প্রচেষ্টার ফলেই আজ বাংলাদেশে একটি স্বচ্ছ সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা একটি গণভোটের (Referendum) দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”
চৌদ্দগ্রামের মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি ড. তাহেরকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তিনি কেবল একটি অঞ্চলের নেতা নন, বরং সংসদে গিয়ে তিনি সারা দেশের বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হবেন এবং সংস্কারের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।”
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও নির্বাচন
এবারের নির্বাচনকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা গতানুগতিক সাধারণ নির্বাচন হিসেবে দেখতে নারাজ নাহিদ ইসলাম। তার মতে, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফসলই হলো এই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা। তিনি বলেন, “যারা এই নির্বাচনকে মামুলি ঘটনা মনে করছেন বা গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকারের চেষ্টা করছেন, তারা মূলত শহীদের রক্তের অবমাননা করছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতন্ত্র একই সুতায় গাঁথা।”
বিচারের প্রতিশ্রুতি ও অগ্রাধিকার
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম আগামীর সরকার গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যদি তাদের জোট সরকার গঠন করে তবে তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার (Priority) হবে গণ-অভ্যুত্থানের খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারসহ জুলাই বিপ্লবের প্রতিটি রক্তের হিসাব এই বাংলার মাটিতেই নেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য নির্বাচনের আগে জনমত গঠনে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।