চাঁদপুরের মতলব পৌর এলাকায় হঠাৎ এক পাগলা কুকুরের তাণ্ডবে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের চরমুকন্দি এলাকায় একটি বেওয়ারিশ কুকুরের বেপরোয়া আক্রমণে শিশুসহ অন্তত ১৮ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এই অতর্কিত হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। মরণঘাতী জলাতঙ্ক বা Rabies-এর ভয়ে আক্রান্তদের পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
বিকেলের শান্ত জনপদে হঠাৎ বিভীষিকা
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বিকেলে চরমুকন্দি এলাকায় একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করেই সামনে পাওয়া পথচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুকুরটি এতটাই হিংস্র ছিল যে, যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কসহ ১৮ জন এই ‘গণকামড়ের’ শিকার হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (Upazila Health Complex) নিয়ে যান।
আক্রান্তদের দীর্ঘ তালিকা: অধিকাংশেরই বয়স ৩ থেকে ১২ বছর হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই কোমলমতি শিশু। আক্রান্তদের তালিকায় রয়েছেন— রাফি (৭), ফরহাদ (৮), আশরাফুল (৬), শান্ত (৬), হোসাইন (৬), নাফিজা আক্তার (১২), অর্পণ (৬), জাহিদ (২৬), নবীর (২২), হোসাইন (৩), আমির হামজা (৭), জিহানা (৮), জারা (৩) এবং শাফায়াত (৫)। ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুকুরের গভীর ক্ষত তৈরি হওয়ায় তাদের অবস্থা নিয়ে স্বজনরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।
পৌরসভার উদাসীনতা ও কুকুরের উপদ্রব নিয়ে জনক্ষোভ
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মিজান পাটোয়ারী ও শামীম দেওয়ান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মতলব পৌরসভা এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের (Stray Dogs) সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে কুকুর নিধন বা বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি পরিচালনা না করায় এই উপদ্রব এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। পাবলিক হেলথ (Public Health) রক্ষায় পৌরসভার পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মতলব পৌরসভার সচিব সাইফুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ অবহিত রয়েছে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং খুব শীঘ্রই কুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ভ্যাকসিন সংকট ও চিকিৎসকদের তৎপরতা
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রায়হান সংবাদমাধ্যমকে জানান, উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের (Rabies Vaccine) তীব্র সংকট রয়েছে। তা সত্ত্বেও জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে আসা আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও ড্রেসিং সেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন স্টকে না থাকলেও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় Emergency Treatment নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, কুকুরের কামড়ের পর বিলম্ব না করে ক্ষতস্থান ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে কমপক্ষে ১৫-২০ মিনিট ধৌত করতে হবে এবং অতি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বর্তমানে আক্রান্তরা সবাই পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।