নেতার পক্ষে হ্যাঁ ভোট, কর্মীদের না ভোট নিয়ে মন্তব্য
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে এতদিন কিছু না বললেও দুই মাস পর একটি দলের প্রধান হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন। নেতা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বললেও কর্মীরা না ভোট চাইছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কর্মীরা যদি না ভোট চায়, তাহলে তাদের কী বলবেন? তিনি কর্মীদের না ভোট চাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'গুপ্ত কাজ' বলে অভিহিত করেন।
উন্নয়ন ও বরাদ্দের অঙ্গীকার
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্থানীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, সাইফুল্লাহ হায়দারের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং এলাকার মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে তিনি ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছিলেন। বিভিন্ন রাস্তাঘাটের উন্নয়নে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হলে তিনি এলাকার জন্য আরও বেশি করে কাজ করতে পারবেন।
শহীদ হত্যার বিচার ও সরকারি হিসাব প্রকাশের প্রতিশ্রুতি
এনসিপির এই নেতা ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের কথা জানান। তিনি বলেন, “আমরা ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ থেকে শাপলা চত্বর হয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদকে হত্যার বিচার করব ইনশাআল্লাহ।” পাশাপাশি তিনি 'হিসাব দাও' নামে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভারতের 'বড় ভাই সুলভ আচরণের' প্রতিবাদ
ভারতের প্রতি বড় ভাই সুলভ আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, “আমরা তিন দিক দিয়ে একটা দেশ দ্বারা ঘেরাওয়ের মধ্যে আছি। তাদের কাছে প্রত্যাশা ছিল, ভালো প্রতিবেশী হওয়ার। কিন্তু তারা আমাদের ছোট প্রতিবেশী হিসেবে ট্রিট করতে চায়।” তিনি আরও জানান, ১১ দলীয় ঐক্য জোট সরকার গঠন করলে যুবকদের সামরিক ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং সামরিক বাহিনীর অধীনে সামরিক ট্রেনিং সদস্য দ্বিগুণ করা হবে।
জিয়াউর রহমানের ভুল ও ঋণ মওকুফের প্রশ্ন
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের সংস্কারের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “শহীদ জিয়া জীবনে একটি ভুল করেছিলেন, বাকশাল গঠনের পরও শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে।” তিনি উল্লেখ করেন যে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ফলস্বরূপ বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়াসহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি কৃষকদের ঋণ মওকুফের বিষয়ে একটি দলের পূর্বের প্রতিশ্রুতির ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে বলেন, “২০০১ সালেও তারা কৃষকদের ঋণ মওকুফের কথা বলেছিল কিন্তু করেনি। এবার আবার বললে জিজ্ঞেস করবেন– এইবার মাফ করবে কবে?”