মানবিকতার বিপর্যয় ও বৈষম্যের রাজনীতি ফারজানা শারমিন পুতুল তার বক্তব্যে লালপুর-বাগাতিপাড়ার অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, 'গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে যে মানবিকতার বিপর্যয় ঘটানো হয়েছে, সেটিই দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। দেশের মানুষের মধ্যে ঘৃণা, হিংসা ও বৈষম্যের রাজনীতি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একটা সময় হিন্দু-মুসলমান বিভেদ করা হতো, এরপর দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমাদের সেই জায়গা থেকে ফিরে আসতে হবে।'
বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও চাকরির বঞ্চনা তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে অনেক বিএনপি নেতাকর্মীর ছেলেমেয়ে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাননি। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যারা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, পট পরিবর্তনের পর তারা (বিএনপি) উল্টো তাদের ঘর পাহারা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন কাজ তারা করবেন না বলেও জানান।
উন্নয়ন স্থবিরতা ও পরিবর্তনের আহ্বান লালপুর-বাগাতিপাড়ার উন্নয়ন স্থবিরতার চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, বিগত ২০ বছরে এই এলাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যুর পর এই এলাকার উন্নয়ন বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি একটি পরিবর্তিত ও উন্নয়নমুখী বাগাতিপাড়া গড়তে জনগণের সঠিক সিদ্ধান্ত কামনা করেন।
বিদ্রোহীদের প্রতি হুঁশিয়ারি দলের বিদ্রোহী বা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে পুতুল বলেন, 'আমাদের প্রোগ্রামে আসতে অনেককে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দলের সুবিধা নিয়ে এখন দলের বাইরে গিয়ে অনেকে সুবিধাবাদী হতে পারেন। আপনারা রাজনীতি করেন, তাতে আমাদের সমস্যা নেই। তবে ধানের শীষের মানুষকে আপনারা বিপথগামী করতে চাইলে জনগণই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।'
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী দয়ারামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সাজদার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ, বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, সাবেক সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নেকবর হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নেতাকর্মী।