• দেশজুড়ে
  • তিস্তার চরে ‘স্যান্ডবার’ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে কৃষকদের নতুন দিগন্ত, আয়ে বড় সম্ভাবনা

তিস্তার চরে ‘স্যান্ডবার’ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে কৃষকদের নতুন দিগন্ত, আয়ে বড় সম্ভাবনা

নীলফামারীর তিস্তার চরে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে 'স্যান্ডবার' পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে নতুন আয়ের মুখ দেখছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় প্রতি বিঘায় ১ থেকে ২ লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
তিস্তার চরে ‘স্যান্ডবার’ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে কৃষকদের নতুন দিগন্ত, আয়ে বড় সম্ভাবনা

নীলফামারী জেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ কৃষকদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এক সময় অনাবাদি পড়ে থাকা বালুচর এখন সবুজ লতায় ছেয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে জেলার বাঘের চরসহ বিভিন্ন চর এলাকায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে আধুনিক 'স্যান্ডবার' পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে, যা তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন দিচ্ছে। কৃষকদের ব্যস্ততা ও আগ্রহ দেখে কৃষি বিভাগ এতে ব্যাপক সাফল্যের আশা করছে।

চাষাবাদে স্যান্ডবার পদ্ধতির প্রয়োগ

তিস্তার চরাঞ্চলে এ বছর মূলত 'স্যান্ডবার' পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে নদীর বালুময় জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে গর্ত তৈরি করে জৈব সার ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার মিশিয়ে চারা রোপণ করা হয়। কৃষি বিভাগ জানায়, বালুমিশ্রিত জমিতে পানি জমে না থাকা এবং মাটির ভেতরে বাতাস চলাচল ভালো থাকার কারণে তরমুজের শিকড় দ্রুত ছড়াতে পারে, যার ফলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা এই পদ্ধতিকে চরাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করছেন।

কৃষকদের আগ্রহ ও প্রত্যাশিত লাভ

অল্প সময়ে ফলন ও বাজারে উচ্চ চাহিদা থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। অনেক কৃষক গম, ভুট্টা ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এখন তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। এতে জমির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি আয়ের সুযোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক বেলাল হোসেন প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন এবং ভালো বাজারদর পেলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন। একই এলাকার নাসির উদ্দিন গত বছরের ১২ বিঘা জমিতে ভালো লাভের অভিজ্ঞতা থেকে এ বছর ৭০ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ শুরু করেছেন।

ফলন ও বাজারজাতকরণের সময়

কৃষকরা জানান, এ বছর টানা ১৫ দিন শৈত্যপ্রবাহের কারণে মৌসুমের শুরুতে চারা বৃদ্ধিতে কিছুটা সমস্যা হলেও, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম দফায় তরমুজ বাজারজাত করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয় দফায় রোপণ করা তরমুজ পুরো রমজান মাসজুড়ে বাজারে সরবরাহ করা যাবে বলে তারা আশা করছেন। যদিও কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় কৃষকরা নিয়মিতভাবে জমির দেখভাল করছেন।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার চরাঞ্চলে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ১ থেকে ২ লাখ টাকার তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারদর ভালো থাকলে কৃষকদের আয় বাড়বে এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না জানান, তিস্তার চরে তিনজন প্রদর্শনী কৃষকের মাধ্যমে প্রায় ২৫ জন কৃষক মোট ৩০০ বিঘা জমিতে 'স্যান্ডবার' পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করছেন। প্রতিটি তরমুজের ওজন ৬ থেকে ৭ কেজি হতে পারে এবং প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ শুরু থেকেই নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চরের প্রধান সমস্যা হলো সেচ। এই সমস্যা সমাধানে চলতি মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে ডিজেলচালিত পাম্প ও ফিতা পাইপ বিতরণ করা হবে। ভবিষ্যতে প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে এই পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

Tags: rural economy nilphamari dimla watermelon farming teesta river char bangladesh agriculture sandbar farming farmers dream