প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত ও নেপথ্যের কারণ
নিহত রানী গাজীপুরের গাছা এলাকার দুলাল মার্কেটে ‘রানী ফ্যাশন গ্যালারি’ নামে একটি কাপড়ের দোকানের মালিক ছিলেন। কাপড়ের ব্যবসার পাশাপাশি তিনি এলাকায় সুদের ভিত্তিতে টাকা লেনদেন করতেন। এই পাওনা টাকা নিয়েই একই এলাকার মুদি দোকানদার নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে আশিক ইসলাম স্বপনের (২৭) সঙ্গে রানীর বিরোধ চলছিল।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে দুলাল মার্কেট এলাকায় এই বিরোধের জের ধরে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আশিক ইসলাম স্বপন ধারালো ছুরি দিয়ে রানীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মাকে বাঁচাতে রানী বেগমের ছেলে হৃদয় (২২) এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
মা-ছেলের হাসপাতালে ভর্তি ও ব্যবসায়ীর মৃত্যু
গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে রানী মারা যান। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত হৃদয়ের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আশিক ইসলাম স্বপন মহানগরের গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের গাছা থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
গাছা থানা পুলিশ জানায়, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শনিবার রাত ২টার দিকে প্রধান আসামি আশিক ইসলাম স্বপনকে গ্রেপ্তার করে। গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
সংগঠনের বক্তব্য
ঘটনার পর গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেই না। আশিক যদি অপরাধ করে থাকে, তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সে বর্তমানে সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত নয়।”
পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।