প্রাথমিকে মূল্যায়ন ব্যবস্থার যুগান্তকারী পরিবর্তন
শিক্ষাকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও দক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্যে প্রাথমিক স্তরে 'নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি' চালু হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে গত ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এনসিসিসির সভায় এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এই নতুন কাঠামোতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous Assessment) এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন (Summative Assessment)-এর মধ্যে একটি যৌক্তিক সমন্বয় আনা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বিত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।
শ্রেণিভিত্তিক মূল্যায়নের অনুপাত
কার্যকর হতে যাওয়া নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুযায়ী, শ্রেণিভেদে ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের অনুপাত ভিন্ন হবে:
- প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি: এই দুই শ্রেণিতে সকল বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও সামষ্টিক মূল্যায়নের অনুপাত থাকবে ৫০:৫০।
- তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি: এই স্তরগুলোতে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার ভিত্তিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়াও, কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কেবলমাত্র ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীর অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে।
গুরুত্ব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, নতুন এই মূল্যায়ন ব্যবস্থা শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই প্রক্রিয়াটিকে আরও কার্যকর ও সহজ করে তুলবে এবং মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ বাস্তবায়নে এই পদক্ষেপ প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মূল্যায়নবিষয়ক পরিমার্জিত অনুচ্ছেদটি প্রচার করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে জাতীয় শিক্ষাক্রম কাঠামো (NCF) সংরক্ষণ এবং মূল্যায়ন নির্দেশিকার প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।