প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তন
শিশুদের পড়ার টেবিলে ফেরানো, ডিভাইসের আসক্তি কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ফিরছে পরীক্ষা। আর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাড়ানো হয়েছে সামষ্টিক মূল্যায়নের (Summative Assessment) নম্বর। এর ফলে বদলে যাচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের সমীকরণ। গত ২৬ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (NCC) এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন মূল্যায়ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন
শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা কমাতে পরীক্ষা বাতিল করা হলেও নতুন সিদ্ধান্তে ফের পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের নতুন নির্দেশিকা জারি করার কথা রয়েছে।
শ্রেণি ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Formative) সামষ্টিক মূল্যায়ন (Summative)/লিখিত পরীক্ষা নতুন সংযোজন প্রথম ও দ্বিতীয় ৫০ শতাংশ ৫০ শতাংশ (লিখিত ও মৌখিক) নতুন করে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত তৃতীয় থেকে পঞ্চম ৩০ শতাংশ ৭০ শতাংশ (লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক) সামষ্টিক মূল্যায়নের হার বৃদ্ধি
শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতের কৌশল
কর্মকর্তারা বলছেন, পরীক্ষা বাতিলের ফলে খুদে শিক্ষার্থীরা বইবিমুখ ও ডিজিটাল ডিভাইসনির্ভর হয়ে পড়েছিল। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীর প্রকৃত শেখা, দক্ষতা ও প্রয়োগ ক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পঠন দক্ষতার উন্নয়ন: শিক্ষার্থীদের স্বাধীন পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে 'গাইডেড রিডিং রুটিন (GRR)' মডেল চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে শিক্ষক ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের ওপর শেখার দায়িত্ব ছেড়ে দেন (Gradual Release of Responsibility)।
সহশিক্ষা কার্যক্রম: পুথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না রেখে সৃজনশীল মেধা বিকাশের জন্য ১০টিরও বেশি কার্যক্রমকে পাঠ পরিকল্পনার অংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, সাংস্কৃতিক চর্চা, সুন্দর হাতের লেখা, ইংরেজি কথোপকথন ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রকাশ।
সম্পূরক পাঠ্য সামগ্রী (SRM): পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাড়তি জ্ঞানের জন্য সম্পূরক পঠন সামগ্রী (Supplementary Reading Materials) সরবরাহ করা হবে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে 'বুক ক্যাপ্টেন' নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
নেপ মহাপরিচালক (ফরিদ আহমদ): নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকে শিশুরা আরও বেশি শ্রেণিমুখী হবে এবং শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা বাড়বে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (আবু নূর মো. শামসুজ্জামান): নতুন মূল্যায়ন নির্দেশকা প্রাথমিক স্তরে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদী।
এই সমন্বিত মূল্যায়ন নির্দেশিকা এনসিসি সভায় চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এটি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।