জামায়াতকে রাজনৈতিক দল মনে করেন না রবিউল আলম
বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, জামায়াতকে আমি কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না। তারা মূলত গোষ্ঠীগত স্বার্থের রাজনীতি করে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতার অংশ হতে চায় অথবা সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে প্রবৃত্ত হয়। তাদের লক্ষ্য হলো ব্যক্তিগত ক্ষমতায়ন এবং গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল করা।
ক্ষমা চাওয়ার রাজনীতি কি অধিকার রাখে?
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম বলেন, যারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না, যারা সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টির জন্য রাজনীতি করে—তারা মূলত জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। রাজনৈতিক দলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সবকিছু জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং জনগণই তার বিচার করবে। জামায়াতের দেশের জন্য করণীয় কী ছিল, বা অতীতে তারা কী করেছে, তা সম্পূর্ণ অস্পষ্ট। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যাদের সারাজীবন ক্ষমা চাইতে হয়, তারা কি রাজনীতির অধিকার রাখে? যদি জীবনের সব কাজের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়, তবে এর মানে কি তারা সারা জীবন অপরাধ করেছে? এমন দলের রাজনীতি কোথায় এবং তারা কীভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করবে? এই কারণেই আমি জামায়াতকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের কর্মকাণ্ড প্রতারণার চিহ্ন বহন করে।
কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ
রবিউল আলম কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা তৈরি করাকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান ছাড়া মানুষের পক্ষে আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া কঠিন। বিএনপি ঘোষণা করেছে যে, ক্ষমতায় গেলে প্রথম দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এই লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, সামাজিক সুরক্ষা খাতের জন্য বাজেটে বরাদ্দ থাকবে, যার মাধ্যমে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের জন্য নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হবে।
নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার
নাগরিক সুবিধা ও নগরায়নের সমস্যা নিয়ে রবি বলেন, ঢাকা-১০ আসনের এই এলাকার মানুষ ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি বসবাস করছে, ফলে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা অত্যন্ত তীব্র। তিনি নির্বাচিত হলে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তৎপর করতে কাজ করবেন এবং সর্বাধিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সর্বদা সক্রিয় থাকবেন। তিনি বিশেষভাবে হাজারীবাগের সমস্যাগুলি চিহ্নিত করেছেন এবং বিএনপি সরকার গঠিত হলে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই এলাকার মানুষদের সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।