উপস্থিতির অপেক্ষায় প্রস্তুত ছিল বাগবাড়ী
তারেক রহমানের সফরসূচিতে পৈতৃক ভিটা বাগবাড়ীর নাম না থাকলেও তাঁকে বরণে নতুন রূপে সেজেছিল 'জিয়াবাড়ি'। জিয়া পরিবারের এই আদি নিবাসে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, গত শুক্র ও শনিবার দিনের কোনো এক ফাঁকে হলেও তিনি ক্ষণিকের জন্য বাগবাড়ীর 'জিয়াবাড়ি'তে যাবেন। তাঁকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতও ছিল বাগবাড়ীবাসী।
সময়স্বল্পতায় পৈতৃক ভিটা দর্শন হলো না
বগুড়া শহরবাসীর সঙ্গে ১৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটালেও, সময়স্বল্পতা এবং দিন-রাত টানা নির্বাচনী প্রচারের ধকল সামলে তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত পৈতৃক ভিটা দর্শনে যেতে পারেননি। তিনি শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া ছেড়ে ঢাকার পথে রওনা হন। এর আগে সকালে তিনি বগুড়ার একটি চার তারকা হোটেলে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। ফেরার পথে শাজাহানপুর ও শেরপুরে গাড়িবহর থামিয়ে পথসভাতেও বক্তব্য দেন তিনি।
আক্ষেপ বাগবাড়ীর মানুষের
এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই মন ভার বাগবাড়ীবাসীর। নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রাজ্জাকুল আমিন রোকন কালবেলাকে জানান, তাঁর (তারেক রহমান) বাগবাড়ী আসার আশা থাকা স্বাভাবিক ছিল এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও ছিল। তবে তিনি এখন দলের চেয়ারম্যান এবং নির্বাচনের সময় হওয়ায় তাঁর অনেক বেশি দায়িত্ব। তাই জোর করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
বাগবাড়ীর বাসিন্দা আজাহার উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “ছোলকোনাক (ছেলেটাকে) দেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ভোটের কারণে আসবার পারল না। আর হামরা বয়সের ভারে শহরত যাবার পানুনা। তবে যাবার সময় বলা গেছে আবার আসবি।”
ফেরার পথে তারেক রহমানের আশ্বাস
বগুড়া ছাড়ার আগে শাজাহানপুরে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারেক রহমান বাগবাড়ীবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি তো ঘরের সন্তান, আবার আসব। আপনারা দোয়া করবেন। এলাকার উন্নয়ন চাইলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। আপনাদের সব ন্যায্যদাবি পূরণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের পর ইনশাআল্লাহ আবার আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।”