• দেশজুড়ে
  • রাজধানীর কয়েক এলাকায় ‘চাপাতি-আতঙ্ক’: দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা সুজন সিকদার গ্রেফতার

রাজধানীর কয়েক এলাকায় ‘চাপাতি-আতঙ্ক’: দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা সুজন সিকদার গ্রেফতার

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রাজধানীর কয়েক এলাকায় ‘চাপাতি-আতঙ্ক’: দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা সুজন সিকদার গ্রেফতার

গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত অটোরিকশায় হানা দিত এই চক্র; প্রযুক্তির ফাঁকি দিতে ঘনঘন অবস্থান বদলে শেষ রক্ষা হলো না র‍্যাবের জালে।

রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও থেকে শুরু করে সবুজবাগ—রাতের স্তব্ধতা ভাঙলেই এই এলাকাগুলোতে শুরু হতো এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী চক্রের তাণ্ডব। অটোরিকশায় চেপে চাপাতি ও সামুরাই হাতে পথচারীদের গতিরোধ করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের মূল কাজ। দীর্ঘ তদন্ত ও কয়েকশ সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিশ্লেষণের পর অবশেষে এই চক্রের মূলহোতা সুজন সিকদারসহ তাঁর সহযোগীদের গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

সিসিটিভি ফুটেজে রোমহর্ষক ছিনতাইয়ের চিত্র

গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সকালের একটি ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল খিলগাঁওবাসীকে। তিলপাপাড়ার বাসিন্দা সুজন ও মাহবুব একটি অটোরিকশায় করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। কিছু দূর এগোতেই আরেকটি অটোরিকশায় আসা দুই ছিনতাইকারী ধারালো চাপাতি ঠেকিয়ে তাঁদের গতিরোধ করে। মুহূর্তের মধ্যে সব কিছু লুট করে পালিয়ে যায় তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

র‍্যাবের ছায়া তদন্তে উঠে আসে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত বছরের ২৪ অক্টোবর মালিবাগের প্রথম লেনে একই কায়দায় (Modus Operandi) এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায় এই চক্র। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে ছিনতাইকারীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীদের পেছনে ছুটলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

যেভাবে ধরা পড়ল ‘চক্রের মাস্টারমাইন্ড’

মালিবাগের ওই ঘটনার পর র‍্যাব-৩ অভিযান শুরু করে। কয়েকশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর প্রথমে ‘কাঙালি’ সুজন ও সাইফুল নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেরিয়ে আসে চক্রের মূলহোতা সুজন সিকদারের নাম। গ্রেফতার এড়াতে সুজন অত্যন্ত ধূর্ত কৌশল অবলম্বন করতেন। তিনি কোনো স্থায়ী মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন না এবং ঘনঘন সিম কার্ড পরিবর্তন করতেন। দেড় মাসের বিরামহীন চেষ্টার পর অবশেষে হাতিরঝিলের একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে সুজন ও তাঁর সহযোগী রুবেলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‍্যাব।

মাদকাসক্তি ও অপরাধের ধরন

র‍্যাব-৩ এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাইদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই চক্রের সদস্যরা মূলত মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতেই তারা গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ছিনতাইয়ে লিপ্ত থাকত। রাতে ঘুমানোর বদলে তারা রাস্তায় ওঁত পেতে থাকত, যাকে অপরাধের পরিভাষায় 'Night Owls' বলা যেতে পারে। কোনো এলাকায় একবার বড় ধরনের ছিনতাই বা ভালো অঙ্কের টাকা পেয়ে গেলে তারা দ্রুত সেই এলাকা পরিবর্তন করত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে একেক সময় একেক বস্তিতে গা ঢাকা দিত তারা।

দুর্ধর্ষ সুজনের ‘ক্রিমিনাল রেকর্ড’

র‍্যাব জানায়, প্রতিটি মিশনেই সুজন তাঁর অটোরিকশা চালক ও সহযোগীদের পরিবর্তন করতেন, যাতে কেউ তাঁদের শনাক্ত করতে না পারে। সুজন সিকদারের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ছিনতাই ও মাদকসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। তাঁর সহযোগী রুবেলের নামে ৭টি এবং কাঙালি সুজনের নামে ৪টি মামলা রয়েছে। তাঁদের দীর্ঘদিনের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে ওই এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর ভীতির সৃষ্টি হয়েছিল।

র‍্যাব আরও জানায়, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধ দমনে এবং রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের এই ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tags: law enforcement cctv footage rab operation khilgaon news crime dhaka sujon shikdar mugging gang malibagh robbery street crime night patrol