কুষ্টিয়া-১ আসনের দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দুটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগগুলো দাখিল করেন দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী খাজা আহমেদ।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় জামায়াতের কয়েকজন নারী কর্মী ভোট প্রার্থনা করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা তাদের প্রচারণায় বাধা দেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সরদ মন্ডলের ছেলে লিটন (৩৫) ও ইসার আলী মন্ডলের ছেলে নরশেদ (২৬)। তারা জামায়াতের নারী কর্মী মোছাঃ মুর্শিদা খাতুন (৩৫), মোছাঃ লাকি খাতুন (২৫) সহ অন্যান্যদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি, শ্লীলতাহানি ও শারীরিক হামলা করে মারাত্মকভাবে আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জামায়াতের কেউ ভোট চাইতে গেলে ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
এছাড়া একই দিন দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী এলাকায় জামায়াতের পুরুষ কর্মীদের ওপর অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন জাকির শাহ নামে এক বিএনপি কর্মী বলেও রয়েছে।
এর আগের দিন রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার আয়াড়ি ইউনিয়নের বড়গাংদিয়া এলাকায় জামায়াতের নারী নেত্রী মোছাঃ নাজমিনের নেতৃত্বে ৯ জন নারী কর্মী নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা তপন তাদের কাজে বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় নারী কর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যা স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের পরিপন্থী। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় দৌলতপুর জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দিন জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে হলে এ ধরনের সহিংস ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিন্দ্য গুহ বলেন, উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর দুটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি বিষয়টি অবগত আছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।