বিশ্বের এক নম্বর ইউটিউবার এবং ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট জগতের মহাতারকা জিমি ডোনাল্ডসন, যিনি বিশ্বজুড়ে ‘মিস্টার বিস্ট’ নামেই সমধিক পরিচিত, নিয়ে এলেন এক রোমাঞ্চকর সুসংবাদ। তার জনপ্রিয় এবং আকাশচুম্বী বাজেটের রিয়েলিটি শো ‘বিস্ট গেমস’-এর তৃতীয় সিজনে এবার অংশ নিতে পারবেন বাংলাদেশের প্রতিযোগীরাও। সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই মেগা প্রজেক্টের ঘোষণা দেন তিনি, যা দেশীয় তরুণ সমাজ ও কন্টেন্ট প্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধি হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ
দীর্ঘদিন ধরে মিস্টার বিস্টের ভিডিওগুলো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে। তবে এতদিন তার এই বিশাল আয়োজনের রিয়েলিটি শোতে অংশগ্রহণের সুযোগ নির্দিষ্ট কিছু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এবার সেই গণ্ডি পেরিয়ে ‘বিস্ট গেমস সিজন থ্রি’-কে একটি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে রূপ দিচ্ছেন তিনি। জিমি জানিয়েছেন, এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের নাগরিক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। ফলে এই প্রথমবারের মতো লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার দ্বার উন্মোচিত হলো বাংলাদেশিদের জন্য।
৫০ লাখ ডলারের আকাশচুম্বী পুরস্কারের হাতছানি
মিস্টার বিস্টের প্রতিটি আয়োজনই মানেই অর্থের ঝনঝনানি আর রোমাঞ্চকর সব চ্যালেঞ্জ। ‘বিস্ট গেমস সিজন থ্রি’-এর জন্য তিনি পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করেছেন ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৫ মিলিয়ন ডলার। বর্তমান বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা। একজন প্রতিযোগীর জন্য এটি কেবল একটি জয় নয়, বরং জীবন বদলে দেওয়ার মতো এক বিশাল প্রাপ্তি। এই বিপুল অংকের প্রাইমানি বা ‘প্রাইজ মানি’ জেতার লক্ষ্যেই এবার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেরা প্রতিযোগীদের খুঁজে বের করবে মিস্টার বিস্টের টিম।
আবেদনের যোগ্যতা ও কঠিন শর্তাবলি
এই আন্তর্জাতিক রিয়েলিটি শোতে অংশ নিতে হলে আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। মিস্টার বিস্টের অফিশিয়াল কাস্টিং কল অনুযায়ী: ১. আবেদনকারীকে অবশ্যই ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী হতে হবে। ২. প্রতিযোগীর একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে, যার মেয়াদ অন্তত ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত থাকতে হবে। ৩. আবেদনকারীকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য শারিরীক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং যোগ্য হতে হবে।
বাছাই প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সময়রেখা
প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক হাজার প্রতিযোগীকে ডিজিটাল আবেদনের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা হবে। এরপর শুরু হবে কঠোর ‘গ্লোবাল কাস্টিং’ প্রক্রিয়া। জানা গেছে, চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার আগে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির কাজ চলবে। প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপ ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্যায় হবে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত, যা দর্শকদের দেবে এক অনন্য সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।
কীভাবে আবেদন করবেন বাংলাদেশিরা?
আগ্রহী বাংলাদেশি প্রতিযোগীরা মিস্টার বিস্টের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিযোগিতার শুটিং হবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, যেখানে প্রতিযোগীদের টিকে থাকতে হবে রোমাঞ্চকর সব চ্যালেঞ্জ ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মাধ্যমে।
ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের এই যুগে মিস্টার বিস্টের এই উদ্যোগকে কেবল একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। বরং একে বিশ্বব্যাপী যুবশক্তির এক মিলনমেলা এবং মেধা প্রদর্শনের নতুন দিগন্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ৬০ কোটি টাকার এই মহাযুদ্ধে বাংলাদেশের কেউ শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে বিশ্বজয় করতে পারেন কি না।