• বিনোদন
  • সালমান খানের বড় জয়: অভিনব কাশ্যপের মানহানিকর মন্তব্যে আদালতের কড়া নিষেধাজ্ঞা

সালমান খানের বড় জয়: অভিনব কাশ্যপের মানহানিকর মন্তব্যে আদালতের কড়া নিষেধাজ্ঞা

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
সালমান খানের বড় জয়: অভিনব কাশ্যপের মানহানিকর মন্তব্যে আদালতের কড়া নিষেধাজ্ঞা

বিচারের কাঠগড়ায় ‘দাবাং’ নির্মাতার প্রতিহিংসা; সালমান ও তাঁর পরিবার নিয়ে আপত্তিকর প্রচারে আদালতের লাল সংকেত।

বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খান ও ‘দাবাং’ খ্যাত পরিচালক অভিনভ কাশ্যপের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ মোড় এল। সালমান খান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে অভিনভ কাশ্যপের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মুম্বাইয়ের একটি আদালত। আদালতের এই রায়কে সুপারস্টার সালমানের বড় ধরনের আইনি জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও নিষেধাজ্ঞা মুম্বাইয়ের সিটি সিভিল কোর্টের বিচারক পি. জি. ভোসালে এই মামলার শুনানি শেষে অভিযুক্ত অভিনভ কাশ্যপসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, অভিনভ কাশ্যপ বা তাঁর কোনো সহযোগী সালমান খান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবন নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননাকর বা মানহানিকর মন্তব্য করতে পারবেন না। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা নির্ধারণ রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক পি. জি. ভোসালে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “Freedom of Expression বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনো ব্যক্তিকেই অন্য কাউকে অপমান করার বা ভীতিকর ভাষা ব্যবহারের লাইসেন্স দেয় না।” আদালত মনে করেন, কোনো পাবলিক ফিগার বা সেলিব্রেটির সমালোচনা করার অধিকার থাকলেও, তা যেন চরিত্রহনন বা কুৎসা রটনার পর্যায়ে না পৌঁছায়।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার বন্ধের নির্দেশ আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ‘বলিউড ঠিকানা’ নামক ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও সাক্ষাৎকারে সালমান খানকে নিয়ে যেসব কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিনভ কাশ্যপ ছাড়াও কোমল মেহরু ও খুশবু হাজরের মতো ব্যক্তিদের দেওয়া সাক্ষাৎকারগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো Social Media প্ল্যাটফর্মে পোস্ট, রি-পোস্ট বা সার্কুলেট করা যাবে না। বিবাদীরা আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানো না পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

বিবাদের নেপথ্যে ‘দাবাং’ তিক্ততা দীর্ঘদিন ধরেই সালমান খান ও অভিনভ কাশ্যপের সম্পর্ক দা-কুমড়ো পর্যায়ে ছিল। ‘দাবাং’ সিনেমার বিশাল সাফল্যের পর ‘দাবাং ২’ পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনভ। এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সালমান এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন তিনি। অভিযোগ ওঠে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রকাশিত অন্তত ২৬টি ভিডিওতে সালমানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার সুপরিকল্পিত চেষ্টা চালানো হয়েছে।

সুনাম রক্ষায় সালমানের মন্তব্য ও আইনি অবস্থান এই মামলার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সালমান খান জানান, একজন মানুষের অর্জিত সুনাম তাঁর আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে কারোর পরিশ্রমলব্ধ সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। সালমানের পক্ষে ডিএসকে লিগ্যাল (DSK Legal) আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে জানায়, এই পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা নায়কের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অভিযুক্তদের ৯ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিগত মর্যাদার এই আইনি লড়াই এখন বলিউডের অন্দরমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ডিজিটাল যুগে অনলাইন বুলিং এবং সেলিব্রেটিদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার বিরুদ্ধে এই রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tags: celebrity news bollywood news salman khan legal battle defamation case abhinav kashyap court injunction digital defamation dabbang director mumbai court