• জাতীয়
  • প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ-বদলি জেলা পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ-বদলি জেলা পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

জাতীয় ১ মিনিট পড়া

প্রাথমিক শিক্ষকদের ভোগান্তি এড়াতে মন্ত্রণালয় নয়, বরং জেলা পর্যায়ে নিয়োগ, বদলিসহ সবকিছু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায়।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশা-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার শিক্ষণ ও শিখনগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে প্রত্যেকটি স্কুলকে একটি অটোনোমাস বডির মতো গড়ে তুলতে হবে।

আমরা দেখেছি, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় খুব ভালোভাবে শিক্ষাদান করছে। আমি নিজেই বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শন করার আগে বিশ্বাস করতাম না, যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এত ভালো শিক্ষা দেওয়া হয়। আমাদের শিক্ষকরা অর্থমূল্যে বেশি কিছু পান না, তবে তাদের সামাজিক মর্যাদা বাড়ে। যেসব স্কুলে ভালো শিক্ষা দেওয়া হয়, সেসব স্কুলের কমিউনিটির মানুষ শিক্ষকদের সম্মান করেন। তিনি আরও বলেন, স্কুলে আমি দেখেছি, একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক টিমওয়ার্কের মাধ্যমে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে কাজ করেন। তাই স্কুলগুলো অটোনোমাস বডির মতো কাজ করলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।

ডা. বিধান রঞ্জন রায় জানান, সরকার স্কুলে বাজেট দেবে, ইনপুট দেবে এবং একটি তৃতীয় পক্ষ, যেটি আমরা ডিজাইন করেছি এবং বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি, একটি পরিবীক্ষণ ইউনিট হিসেবে একাডেমিক অ্যাসেসমেন্ট করবে। তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অর্জন কেমন হচ্ছে, তা বিষয়ে গবেষণা করবে এবং মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ দেবে।

আমরা দেখতে চাই, পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিশুরা কী কী যোগ্যতা অর্জন করেছে। এ ছাড়া আমাদের পরিকল্পনায় আছে, মন্ত্রণালয় নয় বরং জেলা পর্যায়ে নিয়োগ ও বদলি করা। এতে শিক্ষকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। উপদেষ্টা বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে জনবল। সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে এবং দক্ষ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ মানবসম্পদ তৈরি না হলে রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, শিক্ষার মান উন্নয়নে কন্ট্যাক্ট আওয়ার বৃদ্ধি, একাধিক শিফটের পরিবর্তে এক শিফটে বিদ্যালয় পরিচালনা, শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি, সব বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ করছে।

ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরেকটি সমস্যা ম্যানেজমেন্টে। বড় বড় কথা বলা হয়, ডিজিটালাইজেশনের কথা বলা হয়, কিন্তু সব জায়গায় ফাঁকি থাকে। কোটি কোটি টাকা খরচ হয়, কিন্তু সব জায়গায় আপডেটেড ডাটা পাওয়া যায় না। আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারছি না। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার হলে মানুষের জীবন সহজ ও স্মার্ট করা সম্ভব, কিন্তু প্রয়োগে সমস্যা। কাজেই শিক্ষকদের যে সময় নষ্ট হয়, তা কমিয়ে কীভাবে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো যায়, সেটি আমাদের ভাবনার বিষয়।

তিনি বলেন, এই গবেষণার তথ্য হয়তো নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলবে, তবে এর উদ্দেশ্য আরও বৃহৎ-এনজিও, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা, যাতে সরকারের ওপর ইতিবাচক চাপ তৈরি হয় এবং শিক্ষকদের শিক্ষার বাইরে নানান কাজে ব্যবহার না করা হয়।

ডা. বিধান রঞ্জন রায় আরও বলেন, শিক্ষা খাতে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো একটি বড় বাস্তবতা। এটি এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়; জাতীয় পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে সমাধান করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ।

Tags: পরিকল্পনা সরকারের প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ বদলি জেলা পর্যায়ে নেওয়ার