• জাতীয়
  • তিন ভাগে বিভক্ত বাম সংগঠনের দুটি নির্বাচনে

তিন ভাগে বিভক্ত বাম সংগঠনের দুটি নির্বাচনে

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
তিন ভাগে বিভক্ত বাম সংগঠনের দুটি নির্বাচনে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের বামপন্থি রাজনীতি স্পষ্টভাবে বিভক্ত।

তিন ধারায় ছড়িয়ে পড়া বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর দুটি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরেকটি অংশ তথা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত এবং বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী থাকা বামপন্থি দলগুলো এই নির্বাচন বর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। নির্বাচনে থাকা বামপন্থিদের একটি অংশ গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে জোটবদ্ধ হয়ে ভোটের মাঠে নামছে, অন্য একটি অংশ বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

এ ছাড়া একটি বামপন্থি দল জোটের বাইরে থেকে এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সমঝোতা বনাম বর্জনের এই বিভাজন বাম রাজনীতির আদর্শিক অবস্থান, কৌশল এবং ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এই নির্বাচনে কোন ধারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহলের জায়গা। জোটগত নির্বাচনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে বামপন্থি কয়েকটি রাজনৈতিক দল ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নামে নতুন জোট গঠন করেছে।

গত ২৯ নভেম্বর বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় কনভেনশন থেকে এই যুক্তফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ ঘটে। কনভেনশনের মাধ্যমে বাম-প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে আনার আহ্বান জানানো হয়। বর্তমানে এই যুক্তফ্রন্টে আটটি বামপন্থি রাজনৈতিক দল যুক্ত রয়েছে। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে চারটি।

দলগুলো হলো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ, মার্কসবাদী) এবং বাংলাদেশ জাসদ। এই চার দল ঐক্যবদ্ধভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। জোটগতভাবে ৯৭টি আসনে অভিন্ন প্রার্থী থাকলেও, দলগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্তে আরও কয়েকটি আসনে আলাদাভাবে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী রয়েছে ১৪৭টি আসনে। এর মধ্যে সিপিবির প্রার্থী ৬৫ আসনে, বাসদের ৩৭ আসনে, বাসদ (মার্কসবাদী) ৩৩ আসনে এবং বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী রয়েছে ১৫ আসনে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘আমরা যুক্তফ্রন্টগতভাবে প্রার্থী দিয়েছি, আবার কিছু আসনে দলগতভাবেও আলাদা প্রার্থী রয়েছে। আমরা মাঠে আছি, মানুষের কাছে যাচ্ছি, আমাদের রাজনীতির কথা বলছি। তবে মানুষের মধ্যে একটি চাপা ভয় কাজ করছে, তারা আদৌ নির্বিঘ্ন ও ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারবে কি না।’

একই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে অজানা আতঙ্ক রয়েছে, তারা ঠিকভাবে ভোট দিতে পারবে কি না। নির্বাচনে টাকার খেলা আছে, ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ও মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি নানা কৌশলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এই বাস্তবতার মধ্যেই আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি, আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছি।’

বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় দুই বাম দল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বামপন্থি রাজনীতির আরেকটি ধারা সরাসরি বিএনপির সঙ্গে আসনভিত্তিক সমঝোতার পথে হাঁটছে। ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ নামে গঠিত একটি রাজনৈতিক জোটে থাকা তিনটি বামপন্থি দলের মধ্যে দুটি দল বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে। এই জোটে রয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং গণসংহতি আন্দোলন। এর মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলন বিএনপির কাছ থেকে একটি করে আসন ছাড় পেয়েছে।

বিএনপির দেওয়া ছাড়ের দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জোনায়েদ সাকি এবং ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

তবে এই সমঝোতা বাম রাজনীতির শক্তি বৃদ্ধির চেয়ে বিএনপির নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেই বেশি আলোচিত হচ্ছে। কারণ, গণসংহতি আন্দোলন নিজস্ব শক্তি যাচাই করতে এককভাবেও প্রার্থী দিয়েছে। দলটির মোট প্রার্থী সংখ্যা ১৭টি আসনে। অন্যদিকে, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ দুই নেতা জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হলেও ভোটের রাজনীতিতে তাদের অবস্থান দুর্বল। নিজ নিজ দলের সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা ও মাঠপর্যায়ের শক্তির ঘাটতির কারণে এই দুই নেতার জয়-পরাজয় কার্যত বিএনপির ভোটব্যাংকের ওপরই নির্ভর করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাইফুল হক ও জুনায়েদ সাকির ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও নির্বাচনী বাস্তবতায় তারা স্বতন্ত্র কোনো ভোটধারা তৈরি করতে পারেননি। ফলে আদর্শিক রাজনীতির বদলে বাস্তববাদী সমঝোতার পথ বেছে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর নির্ভর করেই তাদের ভোটের লড়াই চালাতে হচ্ছে। এই অবস্থান বাম রাজনীতির স্বতন্ত্রতা ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল হক বলেন, ‘মানুষের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। যেখানে যাচ্ছি, সেখানেই মানুষ আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছে। দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার যে ক্ষোভ ছিল, তার মধ্যেই এখন ভোট দেওয়ার আনন্দ আছে। এর পাশাপাশি আমাকে ঘিরেও মানুষের আলাদা আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করছি। বিএনপি আমাকে সমর্থন দিয়েছে, বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন, মাঠে কাজ করছেন।’

তবে নির্বাচনী মাঠে সবকিছু যে নির্বিঘ্ন, তা নয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সাইফুল হক বলেন, বহিষ্কৃত প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের আমার দিক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। নানা কৌশলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে আমার বিপক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে, কখনও বলা হচ্ছে আমি বিএনপির প্রার্থী নই। এভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে।’

এদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের আরেক শরিক বামপন্থি দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এই নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিচ্ছে। দলটির নেতাদের ভাষ্য, নির্বাচন ঘিরে জোটের ভেতরে সমঝোতা না হওয়ায় তারা আর গণতন্ত্র মঞ্চে নেই। জোটগত সিদ্ধান্ত ও আসন সমঝোতা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণেই তারা গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে সরে এসেছে বলে জানান দলটির নেতারা।

স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা জেএসডি এবার ২৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। গণতন্ত্র মঞ্চে ভাঙন, বিএনপির সঙ্গে কিছু দলের সমঝোতা এবং এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে বামপন্থি রাজনীতির ভেতরের দ্বন্দ্ব ও কৌশলগত বিভাজন এই নির্বাচনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না ১৪ দলের শরিক বামরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে থাকা বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের শুরুতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তবে ১৪ দলীয় জোটভুক্ত শরিক দলগুলোর ক্ষেত্রে এমন কোনো আইনি বা সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা নেই। তারপরও জোটের বামপন্থি দলগুলো নির্বাচনী মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নয়, বরং ১৪ দলীয় রাজনীতির দীর্ঘদিনের নির্ভরশীলতার প্রতিফলন। আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকেই এই জোট কার্যত রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ৫ আগস্টের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অভিঘাতে সরকার পতনের পর ১৪ দলের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও মাঠে সক্রিয় হতে পারেননি। জোটের একাধিক শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষ করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু গ্রেপ্তার হওয়ার পর জোটটি কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে।

বর্তমানে ১৪ দলীয় জোটে থাকা সাতটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। দলগুলো হলো ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, জাতীয় পার্টি (জেপি) এবং তরিকত ফেডারেশন। এর মধ্যে বামপন্থি রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, ন্যাপ এবং সাম্যবাদী দল। নিবন্ধন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনি সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এসব দল মাঠে না নামায় বাম রাজনীতির এই ধারাটি কার্যত সংসদীয় রাজনীতির বাইরে থেকেই যাচ্ছে।

এই দলগুলোর কোনো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি বা দৃশ্যমান তৎপরতা বর্তমানে নেই। অথচ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ওপর আইনগত কোনো বাধা বা নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তা সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাজনৈতিক ভীতি ও অনিশ্চয়তা। দলগুলোর একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন করতে গিয়ে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে, সেই আশঙ্কাই তাদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।

নেতারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময়ে দলীয় কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, আবার কারও কারও বিরুদ্ধে মামলার আশঙ্কা রয়েছে। এই বাস্তবতায় নির্বাচনে নামলে নতুন কোনো চাপ, হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে, এমন উদ্বেগ থেকেই তারা পিছিয়ে গেছেন।

এ ছাড়া গত প্রায় ১৫ মাস ধরে কার্যত কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না থাকায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মতো সাংগঠনিক প্রস্তুতিও এই দলগুলোর ছিল না। প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকায় মাঠপর্যায়ে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার সক্ষমতাও তাদের ছিল না।

তবে ব্যতিক্রম ছিল ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, এই দুই দলের ভেতরে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে কিছুটা ইতিবাচক আলোচনা ছিল। বিশেষ করে ওয়ার্কার্স পার্টি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ছিল এবং সীমিত পরিসরে হলেও নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছিল। জোটের অন্য শরিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে কার্যত কোনো আগ্রহ বা পরিকল্পনা ছিল না।

১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অল্প কয়েকটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার চিন্তাভাবনা ছিল। কিন্তু দল থেকে প্রার্থী হতে অনেকেই সাহস পাচ্ছিলেন না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিন জোটে থাকার কারণে এ দলটির পাশাপাশি শরিক দলগুলোকেও বিভিন্ন দিক থেকে চাপ ও হুমকির মধ্যে থাকতে হয়েছে বলে নেতারা দাবি করেন। এর মধ্যেই গত ১ ডিসেম্বর ওয়ার্কার্স পার্টির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তবুও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত দলটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে আমাদের দলের কোনো আইনগত বাধা ছিল না। কিন্তু নেতারা প্রার্থী হতে সাহস করেননি। নির্বাচন করলে কী পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে, সেই ভয় ছিল। কারণ বিভিন্ন দিক থেকে বারবার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ১৪ দলের কেউ যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে।

১৪ দলের আরেক শরিক ন্যাপের বলেন, আমাদের নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। এ বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারিনি। যা দেখছি, তাতে নির্বাচনের পরিবেশ আমাদের অনুকূলে নয়। ঝুঁকি আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব সংকট, সংগঠনিক ভাঙন এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর হঠাৎ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এই দলগুলো নিজস্ব অবস্থান পুনর্গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আদর্শিক বাম রাজনীতির বদলে তারা এখন এক ধরনের রাজনৈতিক স্থবিরতার মধ্যে আটকে পড়েছে, যার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সব মিলিয়ে আইনগত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ভয়, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং পরিবর্তিত ক্ষমতার বাস্তবতায় ১৪ দলের শরিক বামপন্থি দলগুলো এই নির্বাচনে কার্যত নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। এতে সংসদীয় রাজনীতিতে বাম ধারার এই অংশটি আরও এক ধাপ পেছনে পড়ে গেল বলে মনে করছেন তারা।

Tags: নির্বাচন বিভক্ত তিন ভাগে বাম সংগঠন দুটি