ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি (টিএফপি) বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট নির্মাণে অসামান্য অবদানের জন্য বিভাগের ১৯ জন শিক্ষার্থীকে প্রদান করা হয়েছে সম্মানজনক ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
সৃজনশীলতার মেলা ও ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
টিএফপি বিভাগের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। শিক্ষার্থীদের হাতে এই বিশেষ সম্মাননা তুলে দিয়ে তিনি তাদের আগামীর সম্ভাবনার প্রশংসা করেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্র ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্টগুলো মূলত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে, যা তাদের তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতারও প্রতিফলন।
ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার সেতুবন্ধন
বিভাগীয় চেয়ারম্যান সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বিভাগের বর্তমান অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অল্প সময়ের ব্যবধানে এই বিভাগটি দেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে একটি শক্তিশালী সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা এবং Industry-Academia সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এই বিভাগটি আগামীতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।” অনুষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক খন্দকার রুবাইয়াত মুরসালিনের সঞ্চালনায় বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কঠোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব নির্বাচন
এবারের অ্যাওয়ার্ডের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। জুরিবোর্ডের কাছে মোট ১২৯টি বিভিন্ন ঘরানার ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট জমা পড়েছিল। সেখান থেকে ১৯টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪১টি কনটেন্টকে পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। কনটেন্টগুলোর নির্মাণশৈলী, চিত্রনাট্য এবং কারিগরি উৎকর্ষ বিবেচনা করে সেরাদের নির্বাচন করা হয়েছে।
পেশাদার জুরিবোর্ডের মূল্যায়ন
বিজয়ীদের নির্বাচনের দায়িত্বে ছিল টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের প্রথিতযশা পেশাদারদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের জুরিবোর্ড। জুরি সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সমাদৃত নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত, শঙ্খ দাশগুপ্ত, চলচ্চিত্র প্রযোজক আরিফুর রহমান, ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড জয়ী চিত্রগ্রাহক (Cinematographer) বরকত হোসেন পলাশ, চলচ্চিত্র সমালোচক সাদিয়া খালিদ রীতি এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জায়েদুল আহসান পিন্টু ও মীর মাসরুরুজ্জামান। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে পেশাদারিত্বের নিরিখে এই বিজয়ীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
এই আয়োজন কেবল শিক্ষার্থীদের উৎসাহিতই করবে না, বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের ভবিষ্যৎ কারিগরদের মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।