• ব্যবসায়
  • বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন, কমেছে অপরিশোধিত তেল ও ডিস্টিলেটের মজুত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন, কমেছে অপরিশোধিত তেল ও ডিস্টিলেটের মজুত

আলোচনা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কেটে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। তবে সংঘাতের ঝুঁকি এবং হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ এখনো বিদ্যমান।

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন, কমেছে অপরিশোধিত তেল ও ডিস্টিলেটের মজুত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ওমানে নির্ধারিত আলোচনার সম্মতির খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বা ১.৪ শতাংশ কমে ৬৮.৪৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১.৪ শতাংশ কমে ৬৪.২৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এর আগে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছিল।

তেলের দামের পতন ও আলোচনার প্রভাব

বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী শুক্রবার ওমানে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর প্রভাবেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে দাম কমেছে। যদিও বৈঠকের আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এর আগের দিন বুধবার তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা ভেঙে যেতে পারে। তবে পরে উভয় দেশের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, আলোচনা শুক্রবারই অনুষ্ঠিত হবে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতামত

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলোচনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামার কারণ। আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, আলোচনা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছিল। তবে পারমাণবিক আলোচনা আবার শুরু হওয়ার খবরে সেই ভয় অনেকটাই কমে এসেছে।

আলোচনার পরিধি নিয়ে ভিন্নমত

ইরান জানিয়েছে, তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও অন্তর্ভুক্ত, তা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চায় আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত হোক। তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতিও আলোচনায় আনতে চায়।

ভবিষ্যৎ সংঘাতের ঝুঁকি ও হরমুজ প্রণালী

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, আলোচনার ঘোষণা এলেও বাজারে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারেন— এমন আশঙ্কা রয়েছে। ইরান ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদক। দেশটির ওপর সামরিক হামলা হলে তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সংঘাত শুরু হলে শুধু ইরানের তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর রপ্তানিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকসহ ওপেকের একাধিক সদস্য দেশ এই প্রণালির মাধ্যমে তাদের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে।

মার্কিন মজুত পরিস্থিতি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সিদ্ধান্ত সাম্প্রতিক ঝুঁকি প্রিমিয়াম কমাতে সহায়তা করেছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের মজুত সংক্রান্ত তথ্য থেকে বুধবার বাজারে তেলের দাম কিছুটা সমর্থন পেয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানিয়েছে, জানুয়ারি ৩০-এ শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে অপরিশোধিত তেল ও ডিস্টিলেটের মজুত কমেছে, যদিও গ্যাসোলিনের মজুত বেড়েছে।

Tags: global market oil reserves fuel oil crude oil price us-iran talks