তারেক রহমানকে শীর্ষ দাবিদার ঘোষণার কারণ
দি ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান একটি খ্যাতনামা রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং ১৮ মাস আগে সংঘটিত 'বিপ্লব'-এর পর এই নির্বাচন প্রথম অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। 'জেনারেশন জেড'-এর আন্দোলনকারীরা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। সাময়িকীটি মনে করে, গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ঘটলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েন সম্পর্ক মেরামত শুরু হবে। এটি তারেক রহমানের পক্ষে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
সমর্থকদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সাময়িকীটি তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্য বর্ণনা করে লিখেছে, ‘বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি যখন ফিরছিলেন, তখন উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা রাস্তায় ছুটে আসেন এবং বাসটি কয়েক মাইল ধীরগতিতে চলছিল, যেন অপেক্ষমাণ সমর্থকরা তাকে ভালোভাবে দেখতে পারেন।’ দি ইকোনমিস্ট আরও মন্তব্য করেছে যে, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো 'যথাযথ' নির্বাচন হয়নি এবং প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার কখনোই প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।
নিরাপত্তাবিষয়ক থিংকট্যাংক বিআইপিএসএস-এর শাফকাত মুনিরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “আমার জীবনের দুই দশক ধরে আমার ভোটের কোনো মূল্য ছিল না। এখন রাজধানীর রাস্তাঘাটজুড়ে নির্বাচনী ব্যানার শোভা পাচ্ছে।”
অন্তর্বর্তী সরকার ও সংস্কারের উদ্যোগ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন তত্ত্বাবধানের শেষ দায়িত্ব পালন করছে। অধিকাংশের মতে, এই সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার রাজনীতিকদের সঙ্গে কাজ করে এমন সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা নতুন করে স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে পতন ঠেকাতে সহায়ক হবে—যেমন একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা।
বিএনপির জনপ্রিয়তা এবং তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি
এসব পরিস্থিতি তারেক রহমানের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে, কারণ জনমত জরিপে তার দল বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। তারেক রহমান নির্বাচিত হলে তার দল বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এবং আরও বেশি তরুণ বাংলাদেশিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেবে, যাতে তারা বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি পেতে পারে। তিনি পানির সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের এবং বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সুশাসন ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের অঙ্গীকার
তারেক রহমান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিচার হতে হবে, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার তিনি করবেন না। তারেক রহমানের যুক্তি, ২০২৪ সালের বিপ্লব দেখিয়েছে, যেসব সরকার জনগণের জন্য কোনো কর্মসূচি রাখে না, তাদের কী পরিণতি হতে পারে। তার মতে, ‘প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া কারও জন্যই ভালো কিছু বয়ে আনে না।’
দি ইকোনমিস্ট উল্লেখ করেছে, লন্ডন থেকে ফিরে আসা এ মানুষটিকে পর্যবেক্ষকদের কাছে আগের চেয়ে ভিন্ন মনে হচ্ছে।