সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত সিনেমা ‘ওসিডি’ নিয়ে আলোচনা করেছেন জয়া আহসান। এটি মূলত ‘অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার’ নামক মানসিক সমস্যা নিয়ে তৈরি। শৈশবের অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতা কীভাবে একজন আক্রান্ত মানুষকে পরিচ্ছন্নতার নেশার সঙ্গে মিশে একের পর এক 'ক্রাইম' করতে বাধ্য করে, সেই চিত্রই পরিচালক তুলে ধরেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও ভালো থাকার মন্ত্র
ভালো থাকার চাবিকাঠি কী—এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া আহসান জানিয়েছেন, তিনি বরাবরই প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসেন। নিজের একটি জগৎ আছে, যেখানে পোষ্যদের নিয়ে তাঁর অনেকটা সময় কাটে। এগুলোই তাঁকে আনন্দ দেয়। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত বিষয়কে ব্যক্তিগত রাখতে চান বলেই তাঁর জীবনে জটিলতা কম। তাঁর বাইরের ইমেজ এবং ভেতরের মানুষটি সম্পূর্ণ আলাদা।
‘ওসিডি’ ছবিতে কাজ করার কারণ
ছবিটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে জয়া বলেন, "আপেক্ষিকভাবে বিষয়টি কঠিন মনে হলেও আদতে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সন্তানকে পৃথিবীতে আনলেই শুধু হয় না, ছোট থেকে তার চারপাশের পরিবেশই কিন্তু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। সেটা কি আমরা দিতে পারছি? সেখানে খামতি থাকলেই বিপদ। প্রথম যখন ছবির প্রস্তাব আসে, আমার মনে হয়েছিল, এটি একটি দায়িত্ববোধের ছবি। এবার সময় এসেছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার।”
অভিনেত্রী জয়া আহসান
‘ওসিডি’ ছবিতে জয়া আহসানকে শ্বেতা নামের এক চিকিৎসকের ভূমিকায় দেখা যাবে। অতীতের ধূসর ছায়া যাঁর জীবনজুড়ে। মনে জমে থাকা ‘কালো মেঘ’ তাঁকে সব সময় তাড়া করে বেড়ায়। তাঁর অতীত সম্পর্কে আচমকা এক রোগী জেনে যাওয়ায় তাকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হয়। আশপাশের মানুষ, যারা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের প্রতিই শ্বেতার বিতৃষ্ণা জন্মায়। এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ছবিটিতে শ্বেতার শেষ পরিণতি কী হয়, তা নিয়েই গল্প এগিয়েছে।
এ ছাড়া সাক্ষাৎকারে সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের অবসরের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন জয়া। তিনি বলেন, “শ্রোতা হিসেবে দুঃখ পেলেও মানুষ হিসেবে উনি আমাকে মুগ্ধ করেছেন। কজন পারে এভাবে জায়গা ছাড়তে। জীবনে অবসর ভীষণ প্রয়োজন। আমরা সেটা নিতে ভয় পাই।”
এ সিনেমাটিতে ছোট পর্দার পরিচিত মুখ ‘ভূতু’ অর্থাৎ আর্শিয়া মুখোপাধ্যায় বড় পর্দায় পা রাখতে চলেছেন। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন কৌশিক সেন, অনসূয়া মজুমদার ও কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।