মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে গতির ঝড়ে অকালে ঝরে গেল তিন তাজা প্রাণ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিপাহিপাড়া-দিঘিরপাড় সড়কের যশলং এলাকায় একটি মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিন বন্ধু নিহত হয়েছেন। দ্রুতগামী মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রলির পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে এই করুণ পরিণতি ঘটে। নিহতদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিয়ন্ত্রণের বাইরে ‘স্পিড’: ঘটনাস্থলেই মৃত্যু দুই বন্ধুর
নিহতরা হলেন—তুর্জয় মাঝি (২৮), হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব (২৭) এবং মো. সানিয়াত (২৯)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে চড়ে দিঘিরপাড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। রাত ১০টার দিকে যশলং এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি 'Freight Trolley'-র নিচে ঢুকে পড়ে।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মো. সানিয়াত ও হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব প্রাণ হারান (Spot Dead)। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে শেষ রক্ষা হলো না তৃতীয় জনের
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তুর্জয় মাঝিকে উদ্ধার করে দ্রুত মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের (Emergency Department) দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আতাউল করিম জানান, তুর্জয়কে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য ও অতিরিক্ত গতির ঝুঁকি
টঙ্গীবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে 'Over Speeding' বা অতিরিক্ত গতির কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি বলেন, “মোটরসাইকেলটি অনেক দ্রুত গতিতে চলছিল। যশলং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি সরাসরি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রলির ভেতরে ঢুকে যায়। ঘটনাস্থলে দুজনের এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর একজনের মৃত্যু হয়।”
পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও ট্রলিটি জব্দ করেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, রাতের বেলা অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানো এবং হেলমেট ব্যবহারের উদাসীনতা এই ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গতির আনন্দ যে মুহূর্তের মধ্যে পরিবারের জন্য আজীবনের কান্না হয়ে দাঁড়াতে পারে, টঙ্গীবাড়ির এই দুর্ঘটনা আবারও সেই রূঢ় বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।