ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ ও সহিংসতা। কক্সবাজারের টেকনাফে নির্বাচনী প্রচারণার মিছিলে অতর্কিত হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সীমান্ত সংলগ্ন এই জনপদ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টেকনাফের ২৫ নম্বর আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-ব্লক এলাকায় একদল অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীর এলোপাতাড়ি গুলিতে শিশুসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রচারণার জটলায় অতর্কিত হামলা
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ঘটনার সময় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের একটি ডাম্পার গাড়ি নির্বাচনী প্রচারণার (Election Campaign) অংশ হিসেবে আলীখালী এলাকা অতিক্রম করছিল। প্রচারণা গাড়িতে গান-বাজনা চলায় স্থানীয় শিশু-কিশোর ও উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে একদল অস্ত্রধারী দুষ্কৃতী (Miscreants) জনতাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। গুলির শব্দে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং সাধারণ মানুষ দিকবিদ্বিক ছুটতে থাকে।
আহতদের তালিকা ও বর্তমান অবস্থা
এই নৃশংস হামলায় একই সঙ্গে স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গা শরণার্থীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতরা হলেন:
১. বাচ্চা মিয়া (৩৮): হ্নীলা আলীখালী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। ২. নূসরাত জাহান (১৮): স্থানীয় বাংলাদেশি তরুণী। ৩. শাহাবুদ্দিন (১১): স্থানীয় বাংলাদেশি শিশু। ৪. আব্দুর রহমান (৩৬): ২৫ নম্বর আলীখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা শরণার্থী। ৫. মোহাম্মদ জিসান (১৩): ওই ক্যাম্পেরই রোহিঙ্গা কিশোর।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে আলীখালীস্থ আইআরসি (IRC) হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের (Shifted) পরামর্শ দেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রশাসনের তৎপরতা ও ছায়া তদন্ত
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBN) এবং টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ সদস্য। এপিবিএন-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে উৎসুক জনতার ভিড়ের ওপর দুর্বৃত্তরা হঠাৎ গুলি চালিয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “কারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে জড়িত, তা শনাক্তে আমরা কাজ শুরু করেছি। টেকনাফের সীমান্ত পরিস্থিতি এবং ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা?
নির্বাচনের প্রাক্কালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এমন গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনী পরিবেশকে কলুষিত করতে এবং জনমনে ভীতি সঞ্চার করতেই এই ‘গানশট’ (Gunshot) বা হামলার পথ বেছে নিয়েছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় যেখানে নিরাপত্তা (Security) ব্যবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল, সেখানে এমন ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে আলীখালী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।