• জাতীয়
  • প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিন গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গত ২২ জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন।

এটি চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। প্রচারণার শেষ প্রান্তে এসে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

ঢাকার বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের সক্রিয়তা

ঢাকার বিভিন্ন আসনে প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হচ্ছেন। সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ এবং ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে তারা ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণের কেড়ে নেওয়া ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং ধ্বংস হওয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা বিএনপির লক্ষ্য। তিনি বলেন, এবার বাংলাদেশের পুনর্গঠন করা হবে।

প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ৪ কোটি যুবক এবং কয়েক লাখ নারীর জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়েই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ সংযোজন করা হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। আমরা এক ব্যক্তির দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়ার বিধান চালু করবো। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সম্পর্কিত বিষয় উন্মুক্ত থাকবে।

১১ দলীয় জোটের সমালোচনা ও প্রতিশ্রুতি

এদিকে ঢাকার সাভারে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, একটি দলের নেতা যখন দেশে এসে নামলেন, তিনি বললেন তার একটি প্ল‍্যান আছে। আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি। প্ল্যান থাকলে শেয়ার করুন, আমরা চাই বাংলাদেশে পরিবর্তন হোক। আমরা সম্প্রীতির রাজনীতিই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি, তিনি কোথায় চিনিকল আছে, কোথায় নেই; কোথায় ইপিজেড আছে, কোথায় নেই; কোনটা বাণিজ্যিক রাজধানী, কোনটা কী হবে; কোথায় সয়াবিন চাষ হয়, কোথায় ভুট্টা চাষ বেশি হয়- তিনি কিছুই জানেন না। যার দেশ সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই, যিনি ১৬-১৭ বছর বিদেশে ছিলেন, যিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন- তার দেশ নিয়ে কী প্ল্যান আছে তা জনগণ অলরেডি বুঝে গেছে।

এ সময় ১১ দলীয় জোটের ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ১১ দলীয় জোট-এটা একটা জোটের সরকার হবে। যেখানে নানামুখী মানুষ রয়েছে, নানা মতের মানুষ রয়েছে। এবং দেশ-বিদেশ থেকে আরও অভিজ্ঞ মানুষকে এনে এই সরকার পরিচালনা করা হবে। আমরা দেশের অভিজ্ঞ এক্সপার্ট মানুষদের নিয়ে ইশতেহার তৈরি করেছি। এনসিপি ইশতেহার তৈরি করেছে, জামায়াতে ইসলামি ইশতেহার তৈরি করেছে। আমরা সব ইশতেহার সমন্বয় করে বাংলাদেশের সামনের সরকার পরিচালনা করবো।

এদিন ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও নিজ আসনের জন্য ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

“পাটওয়ারীর অঙ্গীকার, ঢাকা-৮ হবে জনতার তোমার-আমার সুরক্ষার” শীর্ষক এই ইশতেহারে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারের প্রথম দফায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

তার ৮ দফা ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে- শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার; চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ ঢাকা-৮; সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা; বৈষম্যহীন, মানসম্মত ও নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা; কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ; নাগরিকবান্ধব ও জন দুর্ভোগমুক্ত ঢাকা-৮; আগামীর প্রজন্মের জন্য ঢাকা-৮; এবং জনতার এমপি জনতার সেবক হিসেবে নিজেকে দায়বদ্ধ রাখবে।

ঢাকা ১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী তাসলিমা আখতার রাজধানীর তেজকুনিপাড়া ও কলমিলতা মার্কেট, হোন্ডাগলি-সংলগ্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগকালে বলেছেন, ঢাকা ১২ নির্বাচনি এলাকাকে জবাবদিহিতার রোল মডেল হিসেবে গড়তে চান।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মধ্যেই আমরা সীমাবদ্ধ থাকবো না। তাই ১২ দফা নির্বাচনি ইশতেহারে আমরা সঙ্কট সমাধানের পথ-নকশা সবিস্তারে হাজির করেছি। পাশাপাশি ভোটারদের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য 'সিটিজেন কাউন্সিল' গঠন করার কথাও আমরা বলেছি। আমাদের লক্ষ্য থাকবে ঢাকা ১২ নির্বাচনি এলাকাকে সারা দেশের সামনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করানো।

এদিকে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা রাজধানীর উত্তর মুগদায় গণসংযোগের সময় ভোটারদের প্রতি বলেছেন, ঢাকা-৯ আসনের মানুষের কাছে আহ্বান থাকবে, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পাশাপাশি ফুটবলের পক্ষে নতুন রাজনীতির পক্ষে রায় দেবেন।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমি আন্তরিকতার সঙ্গে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবেন। স্কুলশিক্ষার্থীরা যেন বিশ্বমানের শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধা পায়, সে পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানের কথাও বলেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, গ্যাসের সমস্যা, নিরাপত্তার সমস্যা—এগুলো বছরের পর বছর ধরে চলছে। মানুষ নিয়মিত কর দেয়, কিন্তু ন্যায্য সেবা পায় না। আমি নির্বাচিত হলে এই সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করব, যাতে মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার বুঝে পায়।

এদিকে ঢাকা-১৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভোটার স্লিপ দিতে। দুইদলই বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে করেছে দলের নির্বাচনি ক্যাম্প।

এই চিত্র কেবল ঢাকা- ১৫ আসনেই না, বেশিরভাগ আসনের চিত্রই এক। ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি, জামায়াতের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করেছেন ভোটারদের কাছে ভোটার স্লিপ বিতরণে। এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে মিছিল নিয়ে রাস্তায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভোট চাইতে।

ভোটের মাঠে লড়ছেন প্রায় দুই হাজার প্রার্থী

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন ৩ হাজার ৪১৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থী। তাদের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৫৮০ জন। এরপরে শুরু হয় দাবি-আপত্তি, যাচাই-বাছাই। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। এরপর গত ১০ জানুয়ারি থেকে টানা নয় দিনে আপিল-শুনানি শেষে ৪৩৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন দল থেকে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ফলে সবশেষ হিসেব অনুযায়ী বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্রভাবে ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী রয়েছেন ভোটের মাঠের লড়াইয়ে।

নির্বাচনি প্রচারণার সময়সীমা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেকে সামনে রেখে ২২ জানুয়ারি থেকে ভোটারদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে ভোট চাওয়ার সুযোগ পান প্রার্থীরা। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। অর্থাৎ ভোট শুরুর ৪৮ ঘন্টা আগেই থামবে প্রার্থীদের ভোটের প্রচারণার গাড়ি। নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে যা যা করতে পারবেন তাও নির্ধারণ করে দিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে প্রথমবারের মতো নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে পোস্টার।

Tags: প্রার্থীরা প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে