এমন সময় বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় বসে চা পান করতে করতে কথা হয় এই কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে। এখানকার সমস্যা, নিজেদের প্রত্যাশা ও ভোটের মাঠের চিত্র তুলে ধরেন তারা।
উজিরপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামের সামছু মিয়া (৮৫) বলেন, ‘মানুষ তো দেখি হগল (সব) দিকেই আছে। নির্বাচন আইলে নেতারা আইয়ে। ভোট লই যায়। ভোটের আগে এই দিবো, হেই দিবো, কিন্তু কিছুই তো পাই না। যারে মনে চায় দেয়, সবাইরে তো দেয় না।’
এলাকার সমস্যা নিয়ে এই বৃদ্ধ বলেন, ‘দিনরাত মাদক আর চিনি আসে বর্ডার দিয়ে। চিনি গরিব লোকরা সাইকেলে করে আনি বাজারে বিক্রি করে যায়। মাদক তো বড়দের ব্যবসা। রোড তো পাকা, এখন গাড়ি ঢুকে, গাড়িতে লই যায়। এগুলোর সঙ্গে সব নেতারা জড়িত। আমরা করিও না, বুঝিও না। তবে এসব বন্ধ হওয়া দরকার।’
নির্বাচনে কে জয়ী হতে পারেন- তা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমগো এখানে জামায়াত পাস কইরবো। সবাই জামায়াতরে ভোট দিবো। আমি চাই সবাইকে যেন তারা দেখে।’
তরুণ ভোটার আব্দুর রাজ্জাক হাসানের বাড়ি শ্রীপুর ইউনিয়নের নালঘরে। তার মতে, নেতাদের মধ্যে সমস্যা নেই, নেতারা এলাকার উন্নয়নে ঠিকই বরাদ্দ দেন। কিন্তু পাতি নেতারা খেয়ে ফেলেন। রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। কাজ করে ঠিকই, কিন্তু কিছুদিন পরই তা নষ্ট হয়ে যায়।
ভোট নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ থাকে, ভোট ঠিক হবে। তারা ঢিলা দিলে দখল হবে, মারামারি হবে। এখানে দুই প্রার্থীর অবস্থান ভালো। মিয়া বাজারে বিএনপির অবস্থান ভালো। জোয়ারের তালে আমারও বিএনপিকে ভালো লাগে। একবার (ভোট) দিয়ে দেখি কী করে। ভালো করলে আবার দিবো। না হয়, দিবো না।’