তিনি বলেছেন, “এই অন্যায় বন্ধ করেন, জনাব প্রার্থী। আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, আপনাদের লোক যদি এসব বন্ধ না করে তাহলে পিঠের চামড়া ছিঁড়ে তুলে দেব। কালীগঞ্জ-আদিতমারীতে চাঁদাবাজি ও হামলা-মামলা করার মতো কোনো বাপের বেটার জন্ম হয়নি।”
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে লালমনিরহাট-২ আসনের আদিতমারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
শামীম কামাল তার নির্বাচনি কর্মীকে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে বলেন, “গতকাল (বৃহস্পতিবার) আমার কর্মীকে বিএনপির লোকজন ‘টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন’- এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে হেনস্তা করেছে।”
ভোটের মাঠে টাকা ছড়ানোর অভিযোগে ওই কর্মীকে বিএনপির স্থানীয় নেতাকার্মীরা প্রশাসনের হাতে তুলে দিলে তাকে প্রশাসন জরিমানাও করে। তবে শামীম কামাল বলছেন, তার কর্মীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
লালমনিরহাট-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রোকন উদ্দিন বাবুল, যার প্রতিদ্বন্দ্বী শামীম কামাল। দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি আক্রমণাত্মক বক্তব্যের সীমা নির্বাচনি এলাকা ছড়িয়ে কেন্দ্রেও উত্তাপ তৈরি করার মতো অবস্থায় পৌঁছে যায়।
নির্বাচিন এলাকা আদিতমারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে বক্তব্য দেওয়ার সময় শুক্রবারও শামীম কামাল সমালোচনার তীর ছোড়েন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে।
তিনি বলেন, “আপনি (তারেক রহমান) যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেটা আমরা জানি। আপনাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে পেটানো হয়েছে, ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আপনার এই যন্ত্রণার জন্য আমরা প্রতিবাদ করি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে মুচলেকা দিয়ে আপনার লন্ডনে চলে যাওয়া আমাদের ব্যথিত করেছিল।”
“লন্ডনে বসে আপনি নেতাকর্মীদের সংযত হওয়ার কথা বলছেন। মনে রাখবেন, বাংলাদেশের জনগণ যদি একবার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনাদের অস্তিত্ব থাকবে না,” যোগ করেন শামীম কামাল।
জনসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জনতার দলের এই চেয়ারম্যান বলেন, “দেশে ফেরার পর লক্ষ লক্ষ মানুষ আপনাকে (তারেক রহমান) সংবর্ধনা দিল। কিন্তু বিগত সময়ে যারা মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হলো, তাদের বিষয়ে আপনি একটি শব্দও বললেন না। যারা এক বছর ধরে ঘরে ফিরতে পারছেন না, তাদের কথা একবারও ভাবলেন না।”
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “দেশের প্রধান দুটি দল জামায়াত ও বিএনপির উচিত ছিল সরকারের কাছে মিথ্যা মামলায় আটক ও হয়রানির শিকারদের মুক্তির দাবি জানান। আওয়ামী লীগের ১০ ভাগ লোক খারাপ হতে পারে, তার মানে তো সবাই দোষী নয়। ঢালাওভাবে এসব করে আপনারা কীসের শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান?”
এই জনসভায় আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ যোগ দেন।