ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন, তাকে যুগান্তকারী হিসেবে দেখছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই ইশতেহারকে স্বাগত জানান।
সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি
ড্যাব নেতারা তাদের বিবৃতিতে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিএনপির ইশতেহারে যে পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে; তা বাস্তবায়িত হলে দেশে একটি উন্নত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তাদের মতে, এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের একজন এলিট পার্সন যেরকম স্বাস্থ্যসেবা পাবেন, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষরাও সরকারিভাবে সমান স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ লাভ করবে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও কর্মী নিয়োগ
বিএনপি ঘোষিত ইশতেহারের ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে ২নং প্রতিশ্রুতিতে স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ড্যাবের নেতারা জানান, এই প্রতিশ্রুতিতে 'দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ' করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিপির ৫% বরাদ্দ ও ই-হেলথ কার্ড
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ‘স্বাস্থ্যসেবা’ শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘‘স্বাস্থ্য কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ) নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করাই বিএনপির লক্ষ্য।”
ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে একাধিক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ, ই-হেলথ কার্ড চালু, বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিটি জেলায় আধুনিক সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠা।
গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য পরিকল্পনা
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে— দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) জোরদার করা।
এছাড়াও ঔষধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, মহামারি ও মশাবাহিত রোগ নির্মূল, নিরাপদ পানি সরবরাহ, জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গঠন, স্বাস্থ্য খাতে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ও প্রেসক্রিপশন অডিট প্রবর্তন, মেডিকেল শিক্ষায় গুরুত্বারোপ, স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মেডিকেল বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ড্যাব নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, মানবিক ও জনবান্ধব হবে।