• দেশজুড়ে
  • দুই হেভিওয়েটের সঙ্গে মনিষার টেক্কা, শেষ হাসি কার?

দুই হেভিওয়েটের সঙ্গে মনিষার টেক্কা, শেষ হাসি কার?

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
দুই হেভিওয়েটের সঙ্গে মনিষার টেক্কা, শেষ হাসি কার?

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপির সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন কোন প্রার্থী- বরিশাল-৫ (সদর) আসনে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনার ঝড়।

কেউ বলছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিমই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করবেন। আবার কেউ বলছেন, শ্রমজীবী মানুষের নেত্রী বাসদের জেলা সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তীও ভালো ফাইট দেবেন। নির্বাচন নিয়ে এসব আলোচনা মধ্যে স্পষ্ট হচ্ছে এখানে ত্রিমুখী লড়াই হবে।

জানা গেছে, বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে একমাত্র বরিশাল-৫-এ একজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। তিনি হলেন মনিষা চক্রবর্তী। তিনি নারীদের ভোট থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষের ভোট প্রত্যাশা করছেন। এ জন্য পুরুষ প্রার্থীদের পাশাপাশি সমানতালে নগরী থেকে শুরু করে সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে চলাচ্ছেন তার প্রচার-প্রচারণা।

মনিষার বলছেন, কোটিপতিদের নির্বাচিত করে দেখেছেন, একবারের জন্য গরিব প্রার্থীকে নির্বাচিত করুন। যা প্রতিশ্রুতি দেবো তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে দেখাবো।

২০১০ সাল থেকে বরিশালে শিল্প কারখানায় শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন এবং অটোরিকশা বন্ধসহ শ্রমজীবী মানুষের ছোটবড় সমস্যার সাথী এই মনিষা। শুধু সাথী হননি তাদের জন্য রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামেও ছিলেন সোচ্চার। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়েননি। এ কারণে শ্রমজীবী মানুষ কোনও সমস্যায় পড়লেই দৌড়ে যান মনিষার কাছে।

সঙ্গে সঙ্গে পান তার সহযোগিতা। আর শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং কারাগারে পর্যন্ত যেতে হয়েছে। সেই জায়গা থেকে শ্রমজীবী মানুষ হয়ে উঠেছেন তার একান্ত আপনজন।

শুধু শিল্প কারখানা নয়, তার সহযোগিতার হাত রয়েছে বস্তিবাসীদের মাঝেও। বিশেষ করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে বস্তিবাসীদের মন জয় করে নিয়েছেন ডা. মনিষা। তিনি ৩৪তম বিসিএস-এ ডেপুটি সিভিল সার্জন নিয়োগ পাওয়ার পরও চাকরিতে না গিয়ে মনোনিবেশ করেন রাজনীতিতে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি হতদরিদ্র মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন।

এমনকি বর্তমানে প্রচার-প্রচারণা চলাকালেও নারী-পুরুষ এবং শিশু-কিশোর সবাই তার কাছ থেকে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। তিনিও তাদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন। যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই মুখরিত হয়ে উঠেছে ‘মনিষা মনিষা’ স্লোগান। মনিষার প্রতীক ‘মই’। তার নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা অর্থ ‍আসছে নেতাকর্মী ‍এবং সমর্থকদের কাছ থেকে। মাটির ব্যাংকে জমানো টাকাও তাকে দিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।

এ বিষয়ে ডা. মনিষা চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিগত নির্বাচনগুলোতে কোটিপতিদের নির্বাচিত করেছে ভোটাররা। এবারের নির্বাচনে গরিব প্রার্থীকে (মনিষা) নির্বাচিত করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি। বড় দলের প্রার্থীরা নির্বাচিত হওয়ার পর বড় বড় দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এলাকার তেমন খোঁজ রাখেন না। এমনকি এলাকার কোনও উন্নয়ন করেন না। এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের দেখা পর্যন্ত পান না। তবে আমি ভোটারদের আশ্বস্ত করেছি আমাকে নির্বাচিত করুন আমার দরজা আপনাদের জন্য খোলা থাকবে। এমনকি এলাকার উন্নয়ন আপনাদের নিয়েই করা হবে। দুর্নীতির সামান্যতম আঁচড় আমার ওপর পড়তে দেবো না।’

এদিকে জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে চরমোনাই অনুসারী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জোট না হলেও বরিশাল সদর আসন থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছে দলটি। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তিনি গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে ৩৪ হাজার ৩৫৪ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম বলেন, ‘বরিশাল সদর আসনে ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, মানুষ দুর্নীতি থেকে মুক্তি চায়। সেই মুক্তি একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দিতে পারে। এ জন্য সাধারণ নগরবাসী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগণ আমার পক্ষে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।’

প্রচারণা থেকে একটি কথাই বলা হচ্ছে, ‘দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়তে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে বিজয়ী করুন’। তবে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ ভোটাররা তার প্রধান শক্তি বলে দাবি করেন।

বরিশাল সদর আসনে শক্ত প্রার্থী হচ্ছেন তিনবারের সংসদ সদস্য ও একবারের সিটি মেয়র বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি ছিলেন হুইপ, ছিলেন জেলার মন্ত্রীর দায়িত্বেও। যে ক’বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন প্রতিবার নৌকার সঙ্গেই তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন।

তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় সরোয়ারের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কে থাকবেন? বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি থাকায় দলটির কর্মী-সমর্থকের দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পথে সরোয়ার। আর সদর আসনের সাধারণ ভোটাররা সরোয়ারকে ভালোবাসেন বলেই এ বিজয়ী অনেকটা সুনিশ্চিত বলছেন তারা।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার জানান, তারা কোনও প্রার্থীকে ছোট করে দেখছেন না। যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে সব প্রার্থীকেই সমানভাবে দেখছেন। সে লক্ষ্যে চলছে তাদের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। দলের প্রার্থীকে নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়া সম্ভব নয়, এ কারণে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা লিফলেট নিয়ে ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন- ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন।

এমনকি প্রার্থীকে নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উঠান বৈঠকে ধানের শীষের প্রার্থী তাকে বিজয় করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছেন। একইভাবে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে। ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেন ওই দুই নেতা।

Tags: দুই হেভিওয়েট মনিষার টেক্কা শেষ হাসি