• দেশজুড়ে
  • বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবেশ ও ভোটের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসছে :নির্বাচন কমিশনার মাছউদ

বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবেশ ও ভোটের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসছে :নির্বাচন কমিশনার মাছউদ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবেশ ও ভোটের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসছে :নির্বাচন কমিশনার মাছউদ

শাকিল আহমেদ, রংপুর

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে রাজনৈতিক ও ভোটের সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবেশ ও ভোটের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসছে, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় রংপুর সার্কিট হাউজে জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ডিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সম্মানে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসন, রংপুরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান। সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন,একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধানের চলাচল তাঁর মৌলিক অধিকার। তিনি কবর জিয়ারত করবেন, বিভিন্ন জায়গায় যাবেন—এগুলো তাঁর অধিকার। কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পর পোস্টার অপসারণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক সাড়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ। একটি দলের আমির নিজ থেকেই পোস্টার সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন, অন্য দলের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিও বাতিল হয়েছে। এটিই প্রমাণ করে আমাদের রাজনৈতিক ও ভোটের সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।

নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এগুলোকে ভোটযুদ্ধ বলা হলেও আসলে এটা রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। একে সহিংসতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়।

নির্বাচনকালে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, সব ধরনের সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের আমরা নিন্দা জানাই। জনাব হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকায় সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে নির্বাচন কমিশন কোনো চাপে আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো চাপের মধ্যে নেই। যে বা যারা এমন কোনো মুভমেন্ট করবে যা নির্বাচনের অনুকূল নয়, নির্বাচন কমিশন তার বিরোধিতা করবে। আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই—নির্বাচন বান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন।

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা নিয়ে সরাসরি প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা কোথাও কোনো ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লক্ষ্য করছি না। আমাদের রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রায় ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার—সবাই একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো রয়েছে এবং নির্বাচনের জন্য এটি যথেষ্ট সহায়ক। এই পরিবেশ বজায় থাকলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতি উপহার পাবে।